নরসিংদীতে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
নরসিংদীতে কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীসহ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন ভুক্তভোগী নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলায় অবস্থিত তার নিজ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
আরও পড়ুন: মাধবদীতে মব সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা
এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমি পেশায় একজন আইনজীবী। বিগত সময়ে আমি নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের আইনবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে নরসিংদী জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন আমি আদালতে উপস্থিত থেকে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২৩ আগস্ট (রবিবার) দৈনিক কালবেলা পত্রিকার অনলাইন ভার্সন ও তথাকথিত কিছু ফেসবুক পেজে আমার ছবিসহ ‘প্রবাসীর স্ত্রীসহ কোটি টাকা নিয়ে পালালেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা’ শিরোনামে একটি সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে আমাকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয়-প্রতিপন্ন এবং সুনাম নষ্ট করার জন্য যে সকল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। তিনি
স্থানীয় একটি সালিশ দরবারে জনৈক লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী হাফসা আক্তারের সাথে আমার পরিচয় হয়। সে পরিচয়ে হাফসা আক্তার প্রায় সময়ই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করতো। হাফসা আক্তারের স্বামী লুৎফর রহমান তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। ইতিপূর্বে হাফসা আক্তারের স্বামী লুৎফর রহমান তিনটি বিয়ে করেছিল, তার নির্যাতনের কারণে তিনটি বউই তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং ২০২১ সালে লুৎফর হাফসা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক ঝামেলা চলে আসছিল। একপর্যায়ে হাফসা আক্তার গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক তার স্বামীকে তালাক দেন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে অবহিত করেন। এর কয়েক মাস পর আমরা দুজন ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৩ আগস্ট (রবিবার) দুপুরে আমার অনুপস্থিতিতে হাফসার সাবেক স্বামী লুৎফর রহমান সঙ্গীয় কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে ভাঙচুরসহ লুটপাট চালায়। পরে এ বিষয়টি নরসিংদী মডেল থানা পুলিশকে অবগত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
আরও পড়ুন: রংপুরে চার হত্যা: পুলিশ-আসামির শার্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
তিনি আরও বলেন, লুৎফর রহমান ২০২২ সালে হাফসা আক্তারের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলেন। সেই অ্যাকাউন্টে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সেটা যাচাই না করে এক কোটি দশ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার কথা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এবং ২০২২ সাল থেকে হাফসা আক্তারের অ্যাকাউন্টে কত টাকা রেমিট্যান্স এসেছে, সেটাও দেখার বিষয়। আমি আদালতের কার্যক্রম, চেম্বার পরিচালনাসহ ব্যক্তিগত কাজ করে নিয়মিত পরিচালনা করে আসছি।
পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই না করে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।





