মাধবদীতে মব সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৯ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক পূর্বশত্রুতায় মব সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মাধবদী থানায় এজাহার করতে ব্যর্থ হয়ে নরসিংদীর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ভুক্তভোগীর গুরুতর জখমের স্থির ও ভিডিওচিত্র দেখে মাধবদী থানাকে মামলাটি এফআইআর করার নির্দেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা: ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট

মামলার বিবরণে জানা যায়, মাধবদী পৌরসভার কোতায়ালীরচর মেন্ডাতলা এলাকার মনসুর মিয়ার মেয়ে সেলিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ছিল একই এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে নুর মোহাম্মদ, মজিবরের ছেলে জাকারিয়া ও সেলিমের ছেলে আনোয়ারের সঙ্গে। এই বিরোধের জের ধরে গত ৪ আগস্ট সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দা, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেলিনাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় সেলিনার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা মাদক বিক্রির নামে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করেন।

পরে এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায় সেলিনাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ভর্তি করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আহত সেলিনার মেয়ে জুয়েনা আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর মাধবদী আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে মাধবদী থানা মামলাটি রুজু করেন। যার মামলা নং ২৩(৮)২০২৬।

মামলার বাদী জুয়েনা আক্তার জানান, আমার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী নারগিস বেগমের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে তার ছেলে জাকারিয়া, নুর মোহাম্মদ ও আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার মাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। আমার মায়ের মাথায় ১৫/২০টি সেলাই লেগেছে এবং শরীরের এমন কোনো জায়গা বাকি নেই, যে আঘাতের চিহ্ন নেই। এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তারা মিথ্যা মাদক বিক্রির গুজবে মব সৃষ্টি করে। আমার মা যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, বা আগে-পরে কোনো মাদকের মামলা থাকে, প্রমাণ করুক। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে, সমস্ত এলাকাবাসীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মা-ছেলে, বাপ-চাচা ছাড়া এলাকায় আর কোনো সচেতন নাগরিক নেই।

তাছাড়া আমার মা অপরাধী হলে, পুলিশ ডেকে প্রমাণসহ ধরিয়ে দেবে। কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে দিয়েছে কি না জানতে চাই?

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে নুর মোহাম্মদ ও জাকারিয়া পারিবারিক বিরোধের কথা স্বীকার করে জানান, সেলিনা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে এলাকা ছাড়া করতে এলাকাবাসী নিয়ে আমরা হামলা করেছি। হামলায় সে সামান্য আহত হয়েছে।

সেলিনা বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা বা অভিযোগ আছে কি না, আর মাদক ব্যবসায়ী হলেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের যেটা ভালো মনে হয়েছে, আমরা সেটাই করেছি।