নুসরাত হত্যা: ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট

Sanchoy Biswas
ইলিয়াছ সুমন, সোনাগাজী (ফেনী)
প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৬ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় যথাযথ ছিল না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথ বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি উল্লেখ করে তাঁকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সরকারি পুকুরের মাটি রাতে ট্রাকে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

হাইকোর্টের রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পূবালী ব্যাংকের সেলফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন, নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।

খালাস পেয়েছেন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাঁর মা শিরীন আখতার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলার পর সিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কারাগারে তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের পরামর্শ এবং নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ ওঠে।

নুসরাত হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।