গ্যাস-সংকটে চুলা না জ্বলায় ছাদে কাঠের চুলায় চলছে রান্না

আগামী রোববারের আগে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই: পেট্রোবাংলা

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ন, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৫ অপরাহ্ন, ২১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে তীব্র থেকে আরও তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট। একইসঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালিত গাড়ি ও ভাড়ায় চালিত যানবাহনের চালকেরা চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে গ্যাসের জ¦ালায় জ¦লে উঠছে রান্না কাজে জড়িত গৃহিনী ও গাড়িচালকেরা। এই সমস্যা অব্যহত থাকলে বড়ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট্ররা।

তবে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই সংকটের কোনো রাতারাতি বা স্বল্পমেয়াদী সমাধান নেই। সংকট মোকাবিলায় তারা দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কূপ খনন এবং আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো-সংকটের কারণে এক মাস ধরে চলমান গ্যাস-সংকট আরও তিন দিন অতিবাহিত করবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। এদিকে গ্যাস-সংকটের কারণে একদিকে যেমন শিল্পকারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার পরিচালন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ২৩ আগস্ট একটি এলএনজি কার্গো আসতে পারে। সেদিন থেকে দুটি এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় চলবে বলে আশা করি। এই সময়ের মধ্যে দেশীয় উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে দেশে গ্যাস-সংকট শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডের আগে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও বর্তমানে তা কমে দৈনিক ২ হাজার ১৯৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। গ্যাসের অভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় অধিকাংশ কারখানা গত এক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে বলে বুধবার সিপিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিল্পমালিকেরা অভিযোগ করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার বেলা ২টার তথ্য অনুযায়ী, এফএসআরইউ থেকে ৫৭১ মিলিয়ন ঘনফুট ও দেশীয় কূপ থেকে ১ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল। পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এলএনজির পাশাপাশি দেশীয় কূপ থেকেও গ্যাসের সরবরাহ দিন দিন কমছে। গত ১০ জুন দেশীয় কূপ থেকে ১ হাজার ৬৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছিল। আর গতকাল দেশীয় কূপ থেকে আসছিল ১ হাজার ৬৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট। মাঝে জুলাইয়ের শুরুর দিকে দেশীয় কূপ থেকে গ্যাসের সরবরাহ ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটেও নেমেছিল। দেশীয় কূপ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক কোম্পানির শেভরন ও তাল্লোর নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকেই উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে। গত ১০ জুন এই দুই কোম্পানি থেকে ৯৪৮ মিলিয়ন সরবরাহ থাকলেও গতকাল তা ছিল ৯০৯ মিলিয়ন ঘনফুট। গ্যাসের সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার অতিক্রম করলে লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াটের ঘর অতিক্রম করছে। আবার চাহিদা ১৫ হাজারের নিচে নেমে এলে লোডশেডিংও এক হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসছে।

আরও পড়ুন: কলেবর বাড়ল মন্ত্রিসভার, শপথ নিলেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী

জানা গেছে, মিরপুরের আমতলা এলাকার টিনের ছাউনির একটি ঘরে আটটি কক্ষ। এখানে বসবাস করেন আটটি পরিবার। আট পরিবারের রান্নার ঘর একটি, সেখানে আছে একটি গ্যাস-সংযোগের দুটি চুলা। সেই চুলায় পালা করে রান্না করেন আট পরিবারের নারীরা। কিন্তু গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে এক পরিবারের রান্না শেষ করতেই লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। ফলে চুলার পাশে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরের পরিবারের সদস্যদের। কেউ কেউ রান্নার সুযোগও পাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই রান্নাঘরে বসে রান্না করছিলেন শিরিন বেগম। বেলা ১১টার দিকে রান্না শুরু করেছেন। দেড় ঘণ্টা পরেও শেষ হয়নি একটি পদ। চুলায় এক পাতিলে ছোট মাছের ভুনা, অন্যটিতে পানি গরম করছিলেন তিনি। সেই পানি গরম হলে তাতে চাল দিয়ে ভাত বসাবেন। শিরিন বলেন, গ্যাসের চাপ এত কম যে চুলায় সরাসরি পানি-চাল দিয়ে ভাত রান্না করা যাচ্ছে না। আগে পানি গরম করে নিতে হয়। এরপর চাল দিয়ে কোনোমতে রান্না করতে হয়। মাছের তরকারি রান্না শেষ হওয়ার পরেও ভাত হতে আরও প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়। গ্যাসের সংকটে রান্না নিয়ে বিরক্ত শিরিন বলেন, একবার রানতেই দিন পার। শিরিনের আগে একই চুলায় রান্না করেছেন রেশমা বেগম। মাছ ভুনা, কচুমুখি-চিংড়ি ও ভাত রান্নার পাশাপাশি রাতের রান্নাও একসঙ্গে সেরে নিয়েছেন তিনি। সকাল আটটায় রান্না শুরু করে শেষ করেছেন বেলা ১১টার দিকে। গৃহিণি শিরিন বেগম জানান, আমরা তো ঘরে থাকি, আস্তেধীরে রানদি। কামে যাওয়া মাইয়াগো কষ্ট বেশি। ভোর চাইরটা থেকে উইঠা রানদা লাগে। অনেক সময় চুলাই জ্বলে না, গ্যাস কম থাহে, ভাত-তরকারি পাকে না। আর রেশমা জানান, তিনি ও শিরিন গৃহিণী। বাকিদের মধ্যে তিনটি পরিবারের নারীরা তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর একজন করেন বাসাবাড়ির কাজ, একজন স্বামীর সঙ্গে দোকানে কাজ করেন। গ্যাসের সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইরে কাজে যাওয়া নারীরা। রেশমা বলেন, আমরা তো ঘরে থাকি, আস্তেধীরে রানদি। কামে যাওয়া মাইয়াগো কষ্ট বেশি। ভোর চাইরটা থেকে উইঠা রানদা লাগে। অনেক সময় চুলাই জ্বলে না, গ্যাস কম থাহে, ভাত-তরকারি পাকে না। শুধু আমতলা নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকটে রান্নায় সমস্যা হচ্ছে। কোথাও চুলায় গ্যাসের চাপ এত কম যে রান্না করতে স্বাভাবিক সময়ের কয়েক গুণ বেশি লাগছে। কোথাও আবার দিনের বড় একটা সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন গাড়িচালকেরা। 

গ্যাস না থাকায় কোনো কোনো স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর সঙ্গে দিনের বিভিন্ন সময় ও রাতের লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। গ্যাসের সংকটের চিত্র দেখা গেছে মিরপুরসহ রাজধানীর বেশির ভাগ সিএনজি স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে কয়েক মিনিট সময় লাগছে। ফলে স্টেশনের ভেতর ও বাইরে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ সারি। মিরপুর সিরামিকস রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভারশন সেন্টারের ডিসপেনসার অপারেটর মোহাম্মদ আকাশ বলেন, গ্যাসের চাপ গত কয়েক দিনের তুলনায় আরও কম। গত কয়েক দিন চাপ ছিল ৮০ থেকে ৯০। আজকে সরকারি ছুটির দিনেও সর্বোচ্চ পাওয়া যাচ্ছে ৭০। এই চাপে ৬০ কেজির একটি সিলিন্ডারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস ভরতে তিন থেকে চার মিনিট সময় লাগে বলে জানান তিনি। মতিঝিলের একটি স্টেশনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক খোরশেদ আলম। বেলা ১১টার কয়েক মিনিট পর তিনি গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পান। অর্থাৎ প্রায় দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেছেন। এতক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁর গাড়িতে গ্যাস ঢুকেছে ১৭৮ টাকার। যাত্রীবাহী বাসের চালক মামুন মিয়ার ভোগান্তিও কম নয়। মিরপুর সুপার লিংকের এই চালক বলেন, সাধারণত তাঁর বাসে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস ঢোকে। কয়েক দিন আগেও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার গ্যাস ঢুকত। অথচ আজকে গ্যাস ঢুকেছে মাত্র ২৬০ টাকার। মামুন বলেন, এই গ্যাস দিয়ে কোনোমতে একবার মিরপুর থেকে আজিমপুর যাওয়া-আসা করা যাবে, তাও রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার রিস্ক (ঝুঁকি) আছে। এখন এই গ্যাস নিয়া কী করুম! ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার গ্যাস বন্ধ করলে একেবারে বন্ধ করে দিক। এই যন্ত্রণা আর ভালো লাগে না। ইতিমধ্যে গ্যাসের চাপ না থাকায় মিরপুরের মিনারভা সিএনজি স্টেশন ও শাহজালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। শাহজালাল সিএনজি স্টেশনের কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত একটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত গ্যাস ছিল। ওই সময় গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে লাইনে গ্যাস নেই। আর আরিয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সেখানে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছিল ৩৯টি প্রাইভেট কার ও ৪৩টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অটোরিকশার সারি সড়কের উল্টো দিকেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

এদিকে, গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। কারখানাগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কোনো কোনো ইউনিট বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। সর্বশেষ গত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালটি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই সংকটাপন্ন গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে দেশে দিনের বেলা ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর ফলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানা, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রতিদিন ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়ে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো ৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এর অর্থ হলো, জাতীয় গ্রিডে আসা গ্যাসের সিংহভাগই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে। ফলে যেসব শিল্পকারখানা বয়লার, উৎপাদন প্রক্রিয়া বা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের (ক্যাপটিভ পাওয়ার) জন্য সরাসরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। গত সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও গত দুদিন ধরে শিল্পাঞ্চলগুলোতে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। নরসিংদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, সেখানে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় গত দুই দিনে ১০০টিরও বেশি টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। নরসিংদী সদরের আবেদ টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তার কারখানায় গত ২০ দিন ধরেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চৌয়ালা এলাকার ভাই ভাই টেক্সটাইল-এর মালিক জাহাঙ্গীর আলম তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে গতকাল অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠিয়েছেন। তবে কারখানা মালিকরা জানান, এই সংকটের আগে থেকেই গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে কমছিল। গত সপ্তাহে চাপ স্বাভাবিক ১৫ পিএসআই থেকে কমে ২-৪ পিএসআই-তে নামে এবং গত কয়েক দিনে তা প্রায় শূন্যে ঠেকেছে। নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দেশের পোশাক চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই নরসিংদী থেকে সরবরাহ করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে কারখানা মালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের বেতন বা গ্যাসের বিল পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। গ্যাস সংকটের এই প্রভাব গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের পোশাক কারখানাগুলোতেও তীব্রভাবে পড়ছে। গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বিভিন্ন শিফটে ভাগ করে কাজ চালাচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন প্রায় ২০-২৫ শতাংশ কমে গেছে। লিড টাইম অ্যাপারেলস”-এর ম্যানেজার কাঞ্চন ঘোষ জানান, প্রায় এক মাস ধরে সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা চলছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দিনে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, সেই সাথে জেনারেটরও আমাদের বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার সাফিয়া অ্যাপারেলসে মাত্র দুই মাস আগেও দৈনিক ২৫ হাজার পিস পোশাক উৎপাদন হতো, যা এখন কমে মাত্র ৮ হাজারে নেমে এসেছে। ৬০০ শ্রমিকের এই কারখানার পরিচালক রোকন উদ্দিন জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগদ অর্থের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, গত মাসে শ্রমিকদের বেতন দিতে আমাদের ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।