শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পড়ান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, বিচারপতি, সামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মিনিট পর নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ একসঙ্গে আসেন। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু করেন। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়।
আরও পড়ুন: কলেবর বাড়ল মন্ত্রিসভার, শপথ নিলেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত মা-বোনদের। সেই সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি।
এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বাক্ষর করে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন কার্যকর করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিকেল থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেন। আমন্ত্রণপত্র যাচাই শেষে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আগামী রোববারের আগে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই: পেট্রোবাংলা
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তার মধ্যে ভোট দেননি ৬ জন সংসদ সদস্য। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন নির্বাচনী কর্তা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। দুপুরে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিয়েছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট না দেওয়া ৬ সংসদ সদস্য হলেন—বিএনপির মির্জা আব্বাস, ওসমান ফারুক ও মোস্তফা কামাল পাশা; জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম; খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩৫০টি, যার মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন।
তবে আদালতের নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা না হওয়ায় বর্তমানে সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৩৪৯। ভোট গণনা শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে। ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি নিশ্চিত যে, আপনার দীর্ঘ জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় একটি সফল সময়ের সূচনা করবে।
বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক বিদ্যমান, যার মূলে রয়েছে ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ সম্পর্ক। সম্প্রতি জ্বালানি, প্রযুক্তি, সংযোগ, যুব বিষয়ক, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। মহামান্য, আপনার অব্যাহত সুস্বাস্থ্য ও সুখ, আপনার দায়িত্বের সফল সম্পাদনা এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন।





