ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। এ উপলক্ষে রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোয় রাস্তার অপর পাশে থাকা দারুল আরকাম মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: রায়পুরে চায়না দুয়ারি ও রিং জালের দাপট: বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

তবে বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে খবর পেয়ে আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে প্রবেশ করে অনুষ্ঠানস্থলে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হলে আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। বিষয়টি জানিয়ে তারা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। প্রথমে শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চ শব্দে গান বাজানো শুরু হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে বেকারির লাখ টাকা জরিমানা

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে গভীর রাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

পরে গভীর রাতে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার শাহ আবদুর রউফ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো মেনে নেওয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈঠকে পুলিশ সুপার ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশ লাইন্সের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনকারী তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দারুল আরকাম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব দাবি পুলিশ মেনে নিয়েছে এবং তারা যথাযথ বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন।

জশনে জুলুস বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জশনে জুলুস বন্ধের দাবিতে আলেম সমাজের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ আলেম সমাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে দাবি করা হয়, জেলা প্রশাসক গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং আলোচনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ ধরনের আয়োজন করতে না দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

কিশোরগঞ্জে আপত্তির মুখে কনসার্ট বাতিল

এদিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে একটি কনসার্ট বাতিল করেছে প্রশাসন। শহরের একটি খাবার হোটেলের উদ্যোগে বুধবার রাত ৯টায় অ্যাসেজ ব্যান্ডের শিল্পীদের নিয়ে কনসার্টটি আয়োজনের কথা ছিল।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন বলেন, কোনো পক্ষের আপত্তির কারণে নয়, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন না থাকায় কনসার্টটি বাতিল করা হয়েছে। নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ নেই।

এর আগে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি আহমাদুল্লাহ ‘শরিয়তবিরোধী গান-বাজনা’ আখ্যা দিয়ে কনসার্ট বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কনসার্ট বন্ধ না হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কনসার্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হলে সংগঠনটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।