সাবেক ইউপি সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

Shahrier Islam Pallab
রায়হান পারভেজ, শেরপুর (বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৭ অপরাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ নম্বর শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্যসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।

শেরপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের পথে স্থানীয় এক যুবক তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করা হতো বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: লংলা আধুনিক কলেজের গভর্নিং বডির প্রথম সভা, নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ

বিষয়টি পরিবারকে জানালে ওই যুবকের স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক ও তার পরিবারের লোকজন স্কুলছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় মেয়েটি। পথে একটি দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে অন্যদের সহযোগিতায় প্রধান অভিযুক্ত ওই যুবক তাকে জোর করে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মাইক্রোবাসটি শেরপুরের দিকে চলে যায়।

আরও পড়ুন: আওয়ামী নেতা ও হত্যা মামলার আসামি সোনা আকন্দ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি

মেয়েটি নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে পরে থানায় যোগাযোগ করা হয়। ৩ অক্টোবর রাতে তার মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন—মো. রিয়াদ হোসেন (২০), তার মা মোছা. ফরিদা বেগম (৪০), ১০ নম্বর শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. হাফিজার রহমান (৫৫), মো. জিহাদ হোসেন (২৫) এবং মোছা. কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)।

শেরপুর থানার পুলিশ জানায়, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭/৩০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “বাদীর লিখিত এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”