রায়পুরে সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

Sadek Ali
আব্দুল্লাহ আল মামুন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশিত: ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর, গাছপালা কাটা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার  (২১আগস্ট) রাতে উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লার সঙ্গে তার দ্বিতীয় সংসারের তিন ছেলে মনির মোল্লা , দিদার মোল্লা ও লিটন মোল্লার সাথে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়িতে কয়েক দফায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদক-জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলা, হাসপাতালে মারা গেলেন শিক্ষক

সাবেক চেয়ারম্যানের অভিযোগ, হামলার সময় বাড়ির আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে বাড়িতে ভাঙচুর, বাগানের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা, বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর এবং বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। হামলার সময় স্থানীয় বর্তমান ইউপি সদস্য শাহাজাহান মোল্লাও বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, “ছেলেদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কারণে গত চার দিন ধরে আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমার স্ত্রী হাজেরা ও এ সংসারের সন্তানরাও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বাড়িতে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।”

আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নির্বাচিত: উলিপুরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে। হামলার পর পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যরা অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে তারা জানতে পারেন। কয়েক দফায় হামলার অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা হামলায় জড়িত এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে মনির মোল্লা ও দিদার মোল্লার  বলেন, এই হামলা ও অগ্নিসংযোগের সাথে আমরা জড়িত না তবে “পারিবারিক সমস্যা আছে। আমাদের ফাঁসানোর জন্য   মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গাছপালা কাটার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তাও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশি তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।