শেরপুরে নিষিদ্ধ রঙ ও ঘনচিনি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল আইসক্রিম: কারখানাকে লাখ টাকা জরিমানা, খাদ্যপণ্য ধ্বংস

Sanchoy Biswas
রায়হান পারভেজ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও ঘনচিনি দিয়ে শিশুদের আইসক্রিম তৈরির অপরাধে ‘প্রিন্স সুপার আইসক্রিম’ নামের একটি কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানায় সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর আইসক্রিম জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শেরপুর উপজেলার বাগড়া কলোনি (কুসুম্বি) এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, বগুড়া এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে ও মান্যবর জেলা প্রশাসক, বগুড়ার সার্বিক নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: সিলেটে বাসের চাপায় মা ও ৯ মাসের শিশু নিহত

অভিযান সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে আইন অমান্য করে— আইসক্রিম তৈরিতে তীব্র ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) ব্যবহার করা হচ্ছিল।

খাবারে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এমন রাসায়নিক রঙ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল শিশুদের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় একসঙ্গে ৩০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলো ছাত্র সংসদ ‘আল-ফায়জী’

অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছিল আইসক্রিমের ‘কোন কাপ’।

সরকারি কোনো নিবন্ধন বা অনুমোদন ছাড়াই বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

ফ্রিজে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মিশ্রিত আইসক্রিম বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা হয়েছিল।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. শিহাব উদ্দিন (৪৮) অপরাধ স্বীকার করলে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মেহরাব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’-এর ৩৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকা জরিমানা আরোপ এবং তাৎক্ষণিক তা আদায় করেন। পরে ফ্রিজে রাখা সকল অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল আইসক্রিম বিধি মোতাবেক জব্দ করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার জনাব মো. রাসেল এবং শেরপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক জনাব তাহমিনা আক্তারসহ অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ। আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় বগুড়া জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে সহায়তা প্রদান করে।

ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের প্রচলিত সকল নিয়ম মেনে কারখানা পরিচালনার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।