অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব সন্ত্রাস করেছে এনসিপির লোকজন

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে মব সন্ত্রাস বেড়েছিল এবং এর সঙ্গে এনসিপির কিছু লোকজন জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু। তিনি বলেন, ওই সময়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূরও মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। মব সন্ত্রাসে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চুনারুঘাটে ‘স’ মিলে অভিযান: প্রায় সাড়ে ৩৪ ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ

অরবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু বলেন, মব সন্ত্রাস চালু হয়েছে ইউনূস সরকারের সময় থেকে। শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, সাধারণ নিরীহ মানুষও এর শিকার হয়েছেন। মব সন্ত্রাসের বিচার না হলে এ প্রবণতা আরও বাড়বে।

নূরুল হক নূরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে মব সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: তিন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে, বদলে যাবে যোগাযোগব্যবস্থা: এমএ মান্নান এমপি

মব সন্ত্রাসে উসকানির জন্য পিনাকী ভট্টাচার্য ও সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে দায়ী করে অরবিন্দু বলেন, তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্য ও বার্তা দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে তাঁরা মনে করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকারকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো গুছিয়ে নিতে সময় দেওয়া প্রয়োজন। বিরোধী দলকে রাজপথের পরিবর্তে যৌক্তিক দাবি সংসদে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অরবিন্দু আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেক্সিমকো, বার্ডস গ্রুপ, ডার্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সংকুচিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। এলসি ও ব্যাংকিং সুবিধার সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দল ও জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা একটি মার্কিন চুক্তিকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘বেআইনি’ দাবি করে তা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান অরবিন্দু।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই আন্দোলনে নূরুল হক নূরের ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।