জাবির প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ন, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৮ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা, ঘটনার তথ্য গোপন এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে তারা এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনের পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তারা প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

আরও পড়ুন: শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ায় কাদির মোল্লা স্কুলকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত দুইটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা

ফারজানা তাবাসসুম বলেন, “আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল—৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীরা এটিকে ‘প্রশাসনিক অসততা’ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘বেইমানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একজন উপাচার্যের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সারা রাতের অবস্থান কর্মসূচিতে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং টালবাহানা, দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং অসংবেদনশীল আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে আখ্যা দেন, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। সারা রাত অবস্থানের পর শনিবার সকালে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে হলে ফিরে যান তারা।