ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ২০০

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনে।

শুক্রবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ হাওরে পিকআপ–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুইজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যজন রাজবাড়ী ও মাদারীপুর এলাকা থেকে এসে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় ২ জন এবং সালথা উপজেলায় ১ জন রয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হলো—বোয়ালমারী ১০, আলফাডাঙ্গা ৬, মধুখালী ৩, সদরপুর ৩, ফরিদপুর সদর ৫ এবং চরভদ্রাসন ও নগরকান্দায় ২ জন করে।

আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকের আখড়ায় পুলিশের হানা, ৩৪ লিটার চোলাই মদসহ কুখ্যাত নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার; স্বামী পলাতক

জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বড় দুটি সরকারি হাসপাতালে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার হারও আশাব্যঞ্জক। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ৯ জন। বর্তমানে সেখানে ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অন্যদিকে, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ মোট ৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩ জনসহ বর্তমানে ভর্তি আছেন ১৫ জন এবং এ পর্যন্ত ৩২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিশুদের নির্ধারিত টিকা সময়মতো দিতে হবে। জ্বর, ফুসকুড়ি বা লালচে দানা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।