হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে: রিজভী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৬ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:০৬ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক সমাজ ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেছেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার, কুসংস্কার ও স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার কারণে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

আরও পড়ুন: ১২ এপ্রিল থেকে সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস'২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিএনপি'র উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সব কথা বলেন ।

রিজভী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’। এই প্রতিপাদ্যের মূল কথাই হচ্ছে, সবাইকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে হবে। বিজ্ঞানের সঙ্গে না থাকলে সঠিক রোগ নির্ণয়, সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: এভিয়েশন সিকিউরিটিতে বেবিচকের কর্মশালা

তিনি বলেন, বর্তমানে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে টিকাবিরোধী প্রচার ও কুসংস্কার অন্যতম কারণ। উন্নত বিশ্বেও ‘অ্যান্টি-ভ্যাকসিন’ একটি গোষ্ঠী সক্রিয় এর ফলে সমাজে এখনো অন্ধত্ব, ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে।

রিজভী বলেন, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিজ্ঞানেরই ফল। মানুষ প্রত্যাশা করে, যেকোনো মহামারি বা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও উপকরণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, করোনার সময় বরাদ্দ দেওয়া চাল ও গম তৎকালীন ক্ষমতাসীন চেয়ারম্যানদের বাড়ির নিচে পাওয়া গেছে। এর ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার অত্যন্ত উদ্দীপ্ত ও সর্বতভাবে সক্রিয়। তবে জনস্বার্থকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ খাতে যথেষ্ট নজর দেওয়া হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, গত ১২–১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৩৮ জনের জীবন গেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ এখন হামের ‘হটস্পট’। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যভিত্তিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সাতজন শিশু মারা গেছে। শিশুদের মৃত্যু মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ যেন স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, এটি একটি জনবান্ধব সরকার।

রিজভী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও উন্নতমানের চিকিৎসার পথ দেখায়। আজ মানুষ মহাকাশের বহু দূর পর্যন্ত যেতে পারছে। অথচ হাম এমন একটি রোগ, যা বহু আগে থেকেই শিশুদের আক্রমণ করে আসছে। এত দিনেও কেন এই রোগ নির্মূল হলো না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে একটি মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল আছে, কিন্তু সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। দুই–তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জার্নাল রিভিউতে ২৩ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলে গবেষণার ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানের জন্য, গবেষণার জন্য আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আজকের এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিক্যাল কর্মীরা সজাগ আছেন। বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আবহাওয়ার কারণে অনেক কর্মসূচি বাদ দেওয়া হলেও আয়োজকেরা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশপ্রেমিক ও মানবকল্যাণে নিয়োজিত চিকিৎসক সমাজ হামের মতো মহামারিপ্রবণ রোগ মোকাবিলায় দ্রুত, ক্ষিপ্র ও যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম,জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু , সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও অভিনেতা আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহকারী পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক সাগর খানসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা।