মাদ্রাসা শিক্ষকের প্রহারে গুরুতর আহত ৭ বছরের শিশু, শিক্ষক গ্রেফতার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:৪০ পূর্বাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ভেলানগর জেলখানার মোড় এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাতুল আবরার এরাবিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশু মুজাহিদ শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ কাকারচর এলাকার বাসিন্দা এবং মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল জব্দ

অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার গোসল না করায় শিক্ষক নাজমুল ইসলাম শিশুটিকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পরও তাকে পুনরায় প্রহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয় এবং চামড়া ফেটে রক্তক্ষরণ হয়।

পরিবারের দাবি, শিশুটি একাধিকবার ক্ষমা চাইলেও তাকে মারধর বন্ধ করা হয়নি। পরবর্তীতে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে কর্মরত অবস্থায় আনসার সদস্যের মৃত্যু

শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রাতের দিকে জ্বর ও বমিসহ নানা উপসর্গ দেখা দিলে পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার বিকেলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।

মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এএনএম মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটির শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং সে শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।