নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন

আরইবির সদস্য বিতরণ আব্দুর রহিম মল্লিকের সম্পদের পাহাড়

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আরইবির চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত সদস্য বিতরণ আব্দুর রহিম মল্লিক এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বোর্ডের ব্যাপক দুর্নীতি অসাদাচরণ  ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মোতাবেক সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে মো. আব্দুর রহিম মল্লিক, সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন), আরইবি-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতির দফা ওয়ারি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাই খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থা। দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি কালীন ব্যাপক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরেও কিভাবে সদস্য বিতরণ ও পরিচালনার মত গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় সুবিধাজনক পোস্টে  থেকে ব্যাপক দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করার সুযোগ পায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিতরণে আদিপত্য বিস্তার করে। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরেও এখনো চুক্তিভিত্তিক চাকরি করছে একই পদে। 

আরও পড়ুন: শিশু রামিসা হত্যার চার্জশিট আজ, বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ

অভিযোগ রয়েছে  তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পত্তি ও আর্থিক বিনিয়োগের তথ্যও আমাদের নজরে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দফাওয়ারিরি বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে 

আরও পড়ুন: রামিসা হত্যার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর

মো. আব্দুর রহিম মল্লিক

ব্যাংক: মেঘনা ব্যাংক

হিসাব নং: 112012100000138

মোছাঃ নিজলুফা আক্তার (স্ত্রী)

ব্যাংক: ব্র্যাক ব্যাংক

হিসাব নং: 1065303290001

মোঃ আব্দুর রহিম মল্লিক

ব্যাংক: ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড

হিসাব নং: 1331440018993

 মোঃ আব্দুর রহিম মল্লিক

ব্যাংক: ব্র্যাক ব্যাংক

হিসাব নং: 1065302780001

 মেসার্স অ্যাক্টিভ এন্টারপ্রাইজ (অভিযোগ অনুযায়ী বেনামী মালিকানা সংশ্লিষ্ট)

ব্যাংক: এনআরবিসি ব্যাংক

হিসাব নং: 522833300003023

দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ উপার্জিত টাকা এসব ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মোছাঃ নিজলুফা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে নগদ ১.২০ কোটি টাকা জমা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এনআরবিসি ব্যাংকের তিনটি পৃথক চেকের মাধ্যমে মোট ২.৬৫ কোটি টাকা মেসার্স অ্যাক্টিভ এন্টারপ্রাইজ-এর হিসাবে জমা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে যে, ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডে ৩০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়। প্লট নং: ২০৯/বি, রোড নং: ৮, ব্লক-সি। এছাড়া টঙ্গী, বসুন্ধরা, উত্তরা, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাড়ি অভিযোগ রয়েছে যে, আব্দুর রহিম মল্লিক অতীতে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা যেতে পারে।

উপরোক্ত অভিযোগসমূহ গুরুতর এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তাই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি বা চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে তাঁর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, টেন্ডার কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত বিষয়ে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।

আবেদনে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে দীর্ঘ সময় চাকরির সুযোগে একদিকে অবৈধ সম্পদ অপরদিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় চাকরির পরে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয় আরইবির  সদস্য বিতরণ ও পরিচালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাকে অবসর পরবর্তী কেন উক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে আবারো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দেন দরবার  করার অভিযোগ উঠেছে।