দৌলতপুরে কথিত পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে নিহত ১
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় গড়ে ওঠা কথিত এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬০) নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে রেল ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কথিত পীর শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন শরীফ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়—‘কোরআন যে তৈরি করেছে সেও মূর্খ, যারা পড়ে তারাও মূর্খ।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে পালিত হচ্ছে আগাম ঈদুল আযহা
এ সময় হামলাকারীরা পীর শামিমসহ তার অনুসারী জুবায়ের (৩২), জামিরুন্নেছা (৪০) ও খোকনকে (৪৫) মারধর করে আহত করে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং অন্যদের চিকিৎসা চলছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের আলী মাস্টারের ছেলে। স্থানীয়দের মতে, ২০২১ সালেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।





