উলিপুরে গাক এনজিওর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ: ক্ষুব্ধ গ্রাহক
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় গ্রামীণ আলো বাতি কল্যাণ সংস্থা (গাক) এনজিওর শাখা কার্যালয়ে ক্ষুদ্র ঋণের নামে ভয়াবহ জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ঋণের টাকা দেওয়ার নাম করে অসহায় গ্রাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১ লাখ টাকা ঋণের কথা বলে কাগজে-কলমে পুরো অঙ্ক লিখিয়ে নেওয়া হলেও গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা সরাসরি পকেটে ভরছেন উলিপুর শাখার ম্যানেজার শিমুল ও সহকারী ম্যানেজার বদরুল আলম।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় লালন শাহের মাজারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ ব্যবসার পুঁজি বা পারিবারিক প্রয়োজনে গাক এনজিওর উলিপুর শাখায় ক্ষুদ্র ঋণের জন্য আবেদন করেন। ঋণ অনুমোদনের পর গ্রাহকদের ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর এবং পাসবইয়ে ১ লাখ টাকা ব্যালেন্স দেখানো হয়। কিন্তু চূড়ান্তভাবে টাকা বিতরণের সময় নানা অজুহাতে এবং ‘কমিশন’ বা ‘ঘুষ’ বাবদ ৫০ হাজার টাকা কেটে রেখে বাকি অর্ধেক টাকা ভুক্তভোগীদের হাতে দেওয়া হচ্ছে। অথচ মাঠপর্যায়ে কিস্তি আদায়ের সময় পুরো ১ লাখ টাকার ওপরই সুদসহ কিস্তি দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “আমরা নিরুপায় হয়ে ঋণের জন্য গিয়েছিলাম। ম্যানেজার শিমুল আর সহকারী ম্যানেজার বদরুল আলম আমাদের বলেন, ওপর মহলকে ম্যানেজ করতে হবে, না হলে ঋণ পাস হবে না। ১ লাখ টাকা লিখে আমাদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন পুরো টাকার কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আমরা দিশেহারা।”
আরও পড়ুন: নিকলীতে ১৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
এ বিষয়ে জানতে গাক এনজিওর উলিপুর শাখার ম্যানেজার শিমুল ও সহকারী ম্যানেজার বদরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সদুত্তর দিতে পারেননি।
দরিদ্র গ্রাহকদের রক্তচোষা এই জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এবং উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।





