ঢাকার ঐতিহ্য ও পরিচ্ছন্ন নগরীর বার্তা নিয়ে ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবে হেরিটেজ রান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৮ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন নাগরিকদের সামনে তুলে ধরে নগরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’। রাজধানীর ৪১৬ বছর পূর্তি ও ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে এ আয়োজন করা হয়।

সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে হেরিটেজ রানের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আরও পড়ুন: উত্তরায় ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার ৫

আয়োজনে এক হাজারের বেশি নাগরিক অংশ নেন। মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়, রমনা, শাহবাগ মোড়, কাটাবন মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পলাশী মোড়, লালবাগ কেল্লা, শহিদনগর মোড় ও সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাট হয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রানারকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকার ঐতিহ্যকে ধারণ করে ডিএসসিসির এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য আরও পরিচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল—আমার শহর ঢাকা, যাকে নিয়ে আমার গর্ব করা উচিত। আজকের হেরিটেজ রানে অংশ নিয়ে আপনারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত—এটাই ঢাকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে হবে।’

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথমবারের মতো হেরিটেজ রান আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রথম আয়োজনে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে সেগুলো সংশোধন করে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে। পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করব, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এই ঢাকা শহর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আসুন, দেখি—এটাই আমার ঢাকা শহর। এই শহরেই আমাকে থাকতে হবে, তাই শহরটাকে আরও সুন্দর করতে হবে।’

‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের পরবর্তী আয়োজন

ডিএসসিসির মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে থাকছে নানা আয়োজন।

১৬-২২ আগস্ট: সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক ও নাট্যোৎসব।

২১ আগস্ট: খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।

২১ আগস্ট: সদরঘাটে শত বছরের পুরোনো বিশেষ হেরিটেজ ক্রুজে পর্যটকদের ভ্রমণ।

২২ আগস্ট: মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন।

২১-৩০ আগস্ট: ঢাকার বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’।

২১-৩০ আগস্ট: ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’—ঢাকাকে নিয়ে নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি আহ্বান।

২১-২৮ আগস্ট: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক।

২৩-২৯ আগস্ট: বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচার।

২৪ আগস্ট: উত্তর ধানমণ্ডির জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ‘পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব প্রদর্শন।

২৮ আগস্ট: লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ শোভাযাত্রা।

২৯ আগস্ট: বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।

৩০ আগস্ট: লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প।

৫ সেপ্টেম্বর: আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডা।

নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও উৎসব, গর্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উদযাপনে নগরবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।