হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯০২
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে সারা দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭৯৮ শিশুর শরীরে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৬০৮
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আট শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮০৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০২ জনে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭২৮ শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা গেছে। অর্থাৎ এক দিনে নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশুর সংখ্যা ৭৯৮।
এ সময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭০০ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৪৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ শিশুকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৭ হাজার ৮০০ শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ শিশুদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত অসুস্থতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।





