ধানক্ষেতের আইলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ, আগৈলঝাড়ার কৃষকদের মুখে হাসি

Sadek Ali
আহাদ তালুকদার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
প্রকাশিত: ১:৩৮ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:১১ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ধানক্ষেতের আইলে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকরা। একসময় যেখানে আইল শুধু জমি বিভাজনের কাজে ব্যবহৃত হতো, এখন সেই আইলই কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে আয়ের নতুন উৎস।

উপজেলার বাহাদুরপুরসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা জানান, ধানচাষের পাশাপাশি আইলে মিষ্টিকুমড়া আবাদ করে তারা উল্লেখযোগ্য লাভ পাচ্ছেন। এতে জমির আলাদা কোনো অংশ ব্যবহার করতে হচ্ছে না, আবার একই সঙ্গে দুটি ফসল থেকে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে ডাকাতি, ডাকাতের হামলায় নিহত ১

স্থানীয় কৃষক গোলিস ইলাদান বলেন, দীর্ঘদিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি মিষ্টিকুমড়ার বীজ রোপণ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন পাওয়ার পর ধীরে ধীরে এর চাষ সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক মিষ্টিকুমড়া চাষে যুক্ত হয়েছেন।

কৃষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করা যায় এবং বাজারে এর চাহিদাও ভালো। একটি গাছ থেকে একাধিক মিষ্টিকুমড়া পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও এসব মিষ্টিকুমড়া সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ২৬৯ স্থানে ভাঙন

চাষিরা জানান, মৌসুমে শত শত মণ মিষ্টিকুমড়া বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হয়। এতে কৃষক পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে। অনেকেই ধানচাষের পাশাপাশি এই ফসলকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের উৎসাহ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা ও উন্নত বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে মিষ্টিকুমড়ার উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগের সহায়তা অব্যাহত থাকলে এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে আগৈলঝাড়ার মিষ্টিকুমড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ পরিচিতি লাভ করবে। বর্তমানে ধানের আইলে মিষ্টিকুমড়ার এই চাষ কৃষকদের জন্য একটি সফল কৃষি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।