বড়লেখায় পাহাড়ি ঢলে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মানুষের চরম দুর্ভোগ

Shahrier Islam Pallab
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাকালুকি হাওরে বন্যার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। হাওরপাড়ের মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের হাহাকার। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পানিতে প্লাবিত। সেই সঙ্গে গবাদিপশুরও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও শত শত ঘরবাড়ি। অব্যাহতভাবে পানি বাড়ায় মানুষজন রয়েছে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। সেই সঙ্গে গবাদিপশুরও খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে।

এদিকে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে জেলার সদর ও রাজধানীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ।

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

আকস্মিক ভারতের উজানের ঢলে হাওরপাড়ের মানুষ এবার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা করছেন। জলাবদ্ধতা ও বন্যাকবলিত এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও লোকজন জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানি ভেঙে নৌকা দিয়ে চলাচল করছে। স্থানাভাব ও খাদ্যাভাবে লোকজন কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ বছর অকাল বন্যায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। কীভাবে সারা বছর দিনপাত করবেন ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না।


আরও পড়ুন: ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের আগুনে পুড়ল মহিলা মাদ্রাসা

সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরপাড়ের বড়লেখা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, তালিমপুর, আজিমগঞ্জ, খোটাউড়া, উত্তর পাঠনা, পুরান বড়লেখা, সোনাতলা, ছিকামহল, কলাজুরা, কাঞ্চনপুর, মুড়িরগুল আংশিক ও সদর ইউনিয়নসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি পড়েছেন।

এছাড়াও বড়লেখার সোনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাওরপাড়ের বর্ণি, তালিমপুর ও সুজানগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬০-৭০টি গ্রাম। আর অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি।

হাওরপাড়ের বাসিন্দা মুহিবুর রহমান, জামাল আহমদ, মামুন আহমদ, লেচু মিয়া জানান, এবারে অসময়ে উজানের ঢলে বন্যার হাকালুকি হাওরের বোরো ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। হাওরপাড়ের মানুষ একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। তার ওপর বন্যা, কোনো কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। সরকার যদি আমাদের দিকে নজর না দেয় তাহলে আমরা কীভাবে সারা বছর কাটাবো ভেবে পাচ্ছি না।

বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালেহ আহমদ জুয়েল জানান, ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের রাস্তা তলিয়ে গেছে। মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায় হচ্ছে এখন নৌকা। বিশেষ করে পুরাতন বড়লেখা, তালিমপুর, ছিকামহল, পাটনা, অজমীর, মুড়িরগুল আংশিক ও পৌরশহরের কলেজ রোড, জফরপুর রোড ও হাটবন্দ সড়কসহ কয়েকটি কলোনি তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকেছে অন্তত শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। উপজেলার উজান এলাকায়ও দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা।

বড়লেখা উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। প্রায় তিন হাজার ট্যাবলেট বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও নলকূপের প্ল্যাটফর্ম উঁচুকরণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম চলমান আছে।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী মাহবুব আলম মাহবুব জানান, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন বড়লেখা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ও ইউনিয়ন ঘুরে দেখেছি। হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে রাস্তাঘাটের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বস্তায় বালু ভর্তি করে আপাতত ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য বলেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। তবে ১০৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ পেয়েছি। সেগুলো দ্রুত বণ্টন করার ব্যবস্থা করছি।