নিকলীতে অবৈধ বালু ভরাটে বন্ধ পানি নিষ্কাশন, পানিবন্দি ২০০ পরিবার

Shahrier Islam Pallab
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিকলীতে অবৈধ বালু ভরাটে বন্ধ পানি নিষ্কাশন, পানিবন্দি ২০০ পরিবার। ছবিঃ সংগৃহীত
নিকলীতে অবৈধ বালু ভরাটে বন্ধ পানি নিষ্কাশন, পানিবন্দি ২০০ পরিবার। ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের নিকলী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়হাটি, সাহাপাড়া, বর্মনপাড়া ও কামারহাটি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৭০ বছর ধরে চার গ্রামের পানি গুনিয়াহাটি নিমতলা মাজারসংলগ্ন একটি জায়গা দিয়ে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি সোয়াইজনী নদীতে নিষ্কাশিত হয়ে আসছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমেও এ এলাকায় তেমন জলাবদ্ধতা দেখা দিত না।

আরও পড়ুন: ভোলায় নদীর পাড় ভেঙে তলিয়ে দুই যুবক নিখোঁজ

অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ আগস্ট রাতের আঁধারে স্থানীয় মৃত আব্দুর রাশিদের তিন ছেলে ফরজ আলী (৪৫), সুন্দর আলী (৬০) ও হযরত আলী (৫৫) ওই স্থানে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

পরে বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের দাবি, সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করে তিনি ভরাটের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে শুভ ওরফে বিল্লালের শেষযাত্রা থমকে আছে ধর্মপরিচয়ের দ্বন্দ্বে

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন ইউএনও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যস্ততার সুযোগে অভিযুক্তরা পুনরায় ওই স্থানে বালু ফেলে ভরাট করে ফেলেন। এতে চার গ্রামের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, বড়হাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আহাদ, পিতা-মৃত মিয়া হোসেন, ৪৩টি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের জায়গাটি গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলা ভূমি অফিস ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে মাপজোক করে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সীমানা নির্ধারণে খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা প্রশাসনের এ উদ্যোগও মানছেন না। বরং তারা ওই জায়গা নিজেদের বলে দাবি করছেন।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গেছে। শিশু, বয়স্ক ও নারীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অভিযোগকারী আব্দুল আহাদ ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, “প্রায় এক মাস ধরে আমরা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন কষ্ট করতে হবে, আল্লাহই ভালো জানেন।”

তারা আরও বলেন, অবৈধভাবে সরকারি জায়গা ভরাটের কারণে এলাকাবাসীর যে ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নিকলীর বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গাটি মাপজোক করে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হলে চার গ্রামের শত শত মানুষ জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন