একই দাগে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করে নামজারির সুযোগ

সংসদে ডা. বাচ্চুর উত্থাপিত ভূমি জটিলতায় মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

Sanchoy Biswas
বশির আহমেদ কাজল, গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৪ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর এলাকায় একই দাগে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি, খাস জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে সোশ্যাল এইডের উদ্যোগে অভিবাসন সচেতনতা কর্মশালা

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো দাগের একাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং অন্য অংশ খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে সরকারি অংশের সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশ পৃথক করতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নে ডা. বাচ্চু গাজীপুরের শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি থাকার পরও বন বিভাগের গেজেটভুক্ত হওয়ার কারণে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে না পারা এবং বাড়িঘর নির্মাণে বাধার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি এ জটিলতা থেকে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চান।

আরও পড়ুন: চুনারুঘাটে মাদক ব্যবসার অভিযোগ: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সংসদে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের জবাবে বলা হয়, গাজীপুরের শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলায় বন বিভাগের গেজেটভুক্ত বনভূমি রয়েছে এবং একই দাগে বনভূমি, খাস জমি ও ব্যক্তিগত ভূমিও বিদ্যমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেকর্ড সংশোধন, নামজারি, জমা-খারিজসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে জটিলতার কথাও জবাবে উঠে আসে।

এর কয়েক মাস পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্রে একই দাগে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করার সুস্পষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করা হলো।

পরিপত্র অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করবেন। এরপর সরেজমিনে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশ পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

নামজারি আবেদনের পর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। প্রয়োজনে কানুনগো বা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশ চিহ্নিত করতে হবে।

এ সময় যৌথ স্বাক্ষরিত খণ্ড নকশা প্রস্তুত করা হবে। প্রয়োজন হলে শুনানি গ্রহণের পর ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে।

পরিপত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামে করা নামজারি কেবল ওই অংশের জন্য কার্যকর হবে। একই দাগ বা খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশের ওপর এ নামজারির মাধ্যমে কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না। সরকারি অংশ নামজারির আওতার বাইরে থাকবে।

এ ছাড়া নামজারি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি পৃথকীকরণ করা হলে আলাদা কোনো বিবিধ কেস নথি করার প্রয়োজন হবে না। এটি নামজারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সম্পন্ন করতে হবে। তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে বা ভূমি মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে পৃথকীকরণ প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি করতে হবে।

সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে কিংবা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে দেওয়া এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু চলতি বছরের ১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই ভূমি জটিলতার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে একই দাগে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি পৃথক করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা জারি হলো।