কুশিয়ারার দুই তীরে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষের মিলনমেলা, জকিগঞ্জে দুর্গোৎসবের বিদায়

Shahrier Islam Pallab
আহসান হাবীব লায়েক, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৯ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তেল-সিঁদুর, ধান-দূর্বা ও মিষ্টি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের কাস্টমঘাট ও ভারতের করিমগঞ্জের নদীতীরে দুই দেশের হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে কাস্টমঘাটে আসেন পূজার্থীরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই তীর। এর আগে বিভিন্ন মণ্ডপে সিঁদুর খেলা ও বিজয়ার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের আবহও দেখা যায়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক


বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জের কাস্টমঘাট এবং ভারতের করিমগঞ্জের কাস্টমঘাট-সংলগ্ন অখণ্ড মণ্ডলী মন্দির এলাকায় বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঢাকঢোল, কাঁসর, করতাল, মন্দিরা, বাঁশি ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কয়েক যুগ ধরে দুই দেশের নদীতীরবর্তী মানুষের অংশগ্রহণে এ আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

আরও পড়ুন: অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীকে রামেক হাসপাতালে দেখতে গেলেন রাসিক প্রশাসক

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সঞ্জিত চক্রবর্তী পান্না ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল বিশ্বাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সেক্রেটারি সুরঞ্জিত কুমার রায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জকিগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম তরফদার ও জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সত্যজিৎ দত্ত পুরকায়স্থ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি নিহার রায় এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক তাপস বিশ্বাস।

বক্তারা জকিগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, ডিবি পুলিশ, বিজিবি, আনসার সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভারতের করিমগঞ্জেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা যায়। এ সময় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এ বছর সিলেট জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে জকিগঞ্জ উপজেলায়।