উচ্চফলনশীল ধান বীজ উৎপাদনে সফল চুয়াডাঙ্গার ধান চাষীরা

Sadek Ali
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ন, ২৯ মে ২০২৫ | আপডেট: ১০:৪৭ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উচ্চফলনশীল ধান বীজ উৎপাদন করে সফল হয়েছে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলার ধান চাষীরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন ফসল বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন উপ-প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি জাতের ধান চাষ বাস্তবায়ন করছে।

ওয়েভ ফাউন্ডেশন ফসল বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন উপ-প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে ২৫ জন কৃষককে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ব্র্রি- ধান ৫০, ব্রি ধান ৯৬ ও ব্রি ধান ১০২ জাতের ধান বীজ দেয়া হয়। যা এ জেলার আবহাওয়ার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই সাথে চাষীদের বিঘা প্রতি ৫ কেজি মৌলবীজ, ১৮২ কেজি জৈব সার ও নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা দেয়া হয়। 

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরে রবিশস্য ও ফলের মিশ্র বাগান গড়তে কাজ করছে কৃষি বিভাগ

জানা গেছে, চাষীদের কাছে সরবরাহ করা মৌলধান বীজ থেকে উৎপাদিত ধানের চাল জিংক, অ্যামাইলোজ ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। পুষ্টিসমৃদ্ধ ধান ব্রি-ধান ৫০ একটি জনপ্রিয় জাত যা বাংলামতি বা বাসমতি নামেও পরিচিত। এটি বোরো মৌসুমের একমাত্র সুগন্ধিযুক্ত আধুনিক জাত। ব্রি-ধান ৯৬ তে ২৮ শতাংশ অ্যামাইলোজ ও ১০ দশমিক ৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। ব্রি-ধান ১০২ এ ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ জিংক, ২৮ শতাংশ অ্যামাইলোজ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। সুতরাং এই জাতের চালের ভাত গ্রহণ করলে খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সাথে পুষ্টি চাহিদা পূরনে সহায়ক হবে। 

এছাড়াও পিকেএসএফের সহায়তায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন প্রতি বছর আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (ব্রি) কাছ থেকে উচ্চ ফলনশীল, পরিবেশ সহিষ্ণু, নতুন জাতের ধানের মৌলবীজ সংগ্রহ করে এবং চাষীদের প্রদর্শনীর মাধ্যমে ধান বীজ সম্প্রসারণের ভুমিকা অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলায় ৯ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের ধান চাষী আতিয়ার রহমান মন্টু জানান, এ বছর ১৯ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান ৫০ এর বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করেছি। বিঘা প্রতি গড়ে ২৫ মণ করে বীজ ধান উৎপাদন হয়েছে।

একই গ্রামের ধান চাষী মাজেদুল ইসলাম জানান, ৩ বিঘা জমিতে মৌলবীজের মাধ্যমে ব্রি-ধান ৯৬ চাষ করেছেন এবং বিঘাপ্রতি ২৭ মণ করে উৎপাদন হয়েছে।

এছাড়াও ধান চাষী সালেকুর রহমান জানান, ৩ বিঘা জমিতে মৌলবীজের মাধ্যমে ব্রি-ধান ১০২ চাষ করেছেন এবং বিঘাপ্রতি ২৬ মণ করে ধান বীজ পেয়েছেন। উৎপাদিত বীজ আগামী মৌসুমে চাষের জন্য সংরক্ষণ করে অন্যান্য চাষীদের কাছে বিক্রি করবেন।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ জোয়ার্দ্দার জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি ওয়েভ ফাউন্ডেশন দামুড়হুদা উপজেলায় ২৫ জন কৃষকের মাধ্যমে ধান বীজ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বীজ কৃষির অন্যতম প্রধান উপকরণ। সেই ক্ষেত্রে বীজ যেনো ভাল হয়, মানসম্মত হয় এবং সেটি যদি কৃষকের হাতে যায় তাহলে কৃষির কার্যক্রম পরিচালনা ও উৎপাদন সহজ হবে। সে ক্ষেত্রে এ ফাউন্ডেশন ধান বীজ উৎপাদনে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, চাষীরা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটায় অবস্থিত গো-গ্রীন সেন্টার থেকে উন্নত জাতের মানসম্মত ধান বীজ সংগ্রহ করে চাষ করলে ভাল ফলন পাবে বলে মত প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা।