অমিত রেজা চৌধুরী’র একগুচ্ছ কবিতা

Sanchoy Biswas
অমিত রেজা চৌধুরী
প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাধুকরী

নৌকায় হুইলচেয়ার পার করা হচ্ছে

আরও পড়ুন: জোঁক

হুইলচেয়ার যে ডাকঘরের সংলেপ, তাও

নৌকায় চন্দ্রসারং পার করা হচ্ছে

আরও পড়ুন: জাকিয়া সুলতানা লাবিবার কবিতা ‘বিষণ্ণ ভালোবাসা’

গাইতে গাইতে যে চন্দ্রসারং হয়ে গেল, তাকেও

বাঘের উত্থিত থাবা ও বন্য শূয়রাকৃতির মেঘের মাঝে যেটুকু পরাভব,

তোমার হৃদয় ছুঁয়েছিল তাকে!

অসমাপিকার অসুখে সব মুছে যাবে অনূদিত সারস ছাড়া

আলোর অঙ্গারে সব ফিরে আসবে অনূদিত সারস ছাড়া


দৈত্যের খাঁচা

বাঘ একটা শ্লোগান,

বন্দরের শেষে যার দিকে প্রেমিকরা এগিয়ে যায়

যেন ভেঙে পড়া গার্মেন্টস থেকে লাশ বের করছে উঁচু ক্রেন,

যেন লাল টালিতে ঘুমায় রোজিক্রুসিয়ানের অভিশাপ

হরিণ একটা বাগান বাতাস যেখানে আর বিলাপ করে না

আমি তাঁতে বোনা নকশাদার টেনালাক কাপড়ের কথা জানি,

যা প্রতিরোধী নারীরা তাদের স্বপ্নে বোনা কাপড়ের ডিজাইন থেকে পায়

এবং এ নকশা টিবেলি দেবীর একটা উপহার

নিউরালিংক ও ইতিহাসের হৃদয়ের বাইরে আমি

প্রেমিকাদের সেই অন্তর্বাস উপহার দেই, 

যেখানে দুর্বল রতির ছাপ পড়ে না

বুদ্ধ পূর্ণিমার চেয়েও কালো আমি

অস্ত্র বিপণন আর টানে না


ভাঙা খাঁচা

পাখি কেনাবেচার বাজারে গিয়ে দেখি,

রোজ যে দুটো ঘুঘু আমাদের উঠোনে খেতে আসত

তাদের এ্যারেস্ট করে আনা হয়েছে, বিনা ওয়ারেন্টে!

উন্নয়নভীতি পররাষ্ট্রভীতি এমনকি হায়ারার্কিভীতি নিয়েও

যার কোন ধারণা নেই,

সেও পাখি কেনাবেচার বাজারে

উদ্ধত ছুরি হাতে নিজেকে আয়নার মধ্যে দৌড়াতে দেখেছিল!

জ্ঞানমাত্রই নেক্রোফিলিয়াক।


ড্রাগনের রক্তের নেশা

কাঁটা মান্দার গাছের আরেকটা নাম মাদার

যেভাবে চন্দ্রসুড়ঙ্গের ভিতরে

খেয়ার ক্ষতগুলি আমি হৃদয় পেতে নিয়েছি

একটা ডানা নিয়ে উড়তে উড়তে যে ছোট্ট পরীটা

ফুল বিক্রি করছে পথে, থমথমে আলেয়ায়

তার মকর সংক্রান্তি, নিঝুম দৈত্য, সেতুচূর্ণ এড়াতে

আমি তরজাগানের এক নর্তক হয় আমৃত্যু নেচে চলেছি

মাঝনদীতে ডুবে যেতে থাকা ভেলার উপর।

ঈশ্বরের মনের বিষ হল সময়।


জতুগৃহ

মানুষের বেশি গভীরে যেতে নেই

আঁশবটি, উদাসী মল্লিকা, রেশমকীট বেরিয়ে আসে

মানুষের বেশি গভীরে যেতে নেই

ঘোড়দৌড়ের মাঝে হতভম্ব নীটশের ঘোড়াটি দাঁড়িয়ে পড়ে।

গ্রাফিক নভেলিস্টের এর বেশী এগোতে নেই।


বিউপনিবেশায়ন

[হে প্রেমিক, মসীহ আমার

মানুষের হৃদয়ে বারবার ক্রুসিফাইড হয়েছ তুমিই]

সমস্ত আসমান জুড়ে ফুটে আছে স্তন

একমাত্র ওথেলো সিন্ড্রোমের কারণে

প্রেমিক তার নিগূঢ় প্রেমের, মুক্তির দেখা পান

মৌলিক তৃষ্ণা বলে কিছু হয় না

হ্যামলেট ডিজায়ারে যেমন এক ভ্যাম্পায়ার 

মৃত ওফেলিয়া ও তার সৎ মার যৌনতায় একইসাথে 

নিজের নারীসত্তা খুঁজে পেয়েছিল

রক্তাক্ত মাংসে-কলিজায় কমল-কমলযোনি ফুটে থাকে বলে

খুনীমাত্রই প্রেমিক


জন্মভূমি

বদ্বীপ জুড়ে ফণীমনসা

না ফণায়ন মেঘের?

কে আপন কে পর তা জানা

ধূর্ত সর্দি ভেকের

মা মাটি বাও বাসলে ভাল

ছড়াতে না বিষ

কনকলতা জড়িয়ে যেমন

মননিশীথের শিস্

আধেক সত্যে চাইছে কারা

অপূর্ণতায় ঠাঁই 

আধেক প্রাণে ছিটিয়েছিল 

একাত্তরের ছাই

চেতনা নয় খোলামকুচি,

স্বপ্নহন্তারক!

সন্ধ্যাবাতির আলোয় মুছুক

দ্বেষ বিদেশের ছক

প্রতিবেশী না যদি হয়

ভাতৃপ্রতিম, কী দায়

পড়েছে যতিচিহ্নহীন

হতে তাদের ক্ষুধায়!

রূপ ও সুবাস ফুলের খ্যাতি

শিকড় বাঁচার লড়াই

কর্তৃত্ববাদ ফেলে এসো

এককাতারে দাঁড়াই


নাশের রাগিণী

কুরুশ-কাঁটায় বুনে চলেছি অচেতন শ্যাম তোমায়

তোমার অঙ্গে আলতো বুনেছি ছায়াডিঙি, বর্ষণময়ূর, স্বাহা ও অগ্নি

আমি নই, প্রায়ান্ধকার থেকে কারা যেন

আমার কুরুশে বুনতে চাইছে লাল সমাস, ক্বাসিদা!

ঘনশ্যাম নাকি ত্রিভঙ্গের তানে আজ আর আমার নয়

আমি নাকি ওয়াকফ এস্টেট, সৎ মার ছেলে!