সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে সর্বসম্মত ঘোষণা

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫২ অপরাহ্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আরও জোরালো ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সর্বসম্মতভাবে একটি রাজনৈতিক ঘোষণা গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ঘোষণাটি গৃহীত হয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র ও নিচু উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হওয়া এবং হিমবাহ ও বরফের চাদর গলে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ গড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৯ মিলিমিটার বেড়েছে, যা রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধির হার।

আরও পড়ুন: সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবকে শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, মানুষের জীবন, বসতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এমন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র ও নিচু উপকূলীয় এলাকার মানুষের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নতুন ঘোষণায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সমন্বিত উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের গতি বাড়ানো।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি, বসছে মক্কা জোট

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে কোনো দেশের ভূখণ্ড বা উপকূলরেখায় পরিবর্তন এলে সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। ঘোষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলরেখা পরিবর্তিত হলেও সামুদ্রিক সীমানা বহাল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব দেশের অনেকগুলোই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমি হারানো এবং ভবিষ্যতে বসবাসের উপযোগী ভূখণ্ড কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৭৭ কোটি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করেন।

অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের (AOSIS) সদস্য দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, জলবায়ু সংকটে অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো এর প্রভাবের শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

জাতিসংঘের এবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে জলবায়ু, উন্নয়ন, মানবাধিকার, রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলোকে একই আলোচনার আওতায় আনা হয়েছে। জাতিসংঘের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষায় বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ আরও জোরদার হবে।