মুসাব্বির হত্যা: তিন আসামি রিমান্ডে, একজনের স্বীকারোক্তি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:০১ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এক আসামি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর মধ্যে শ্যুটার মো. জিন্নাত দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন দুই সহোদর মো. বিল্লাল (২৯), মো. আব্দুল কাদির এবং মো. রিয়াজ।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে চলন্ত মাইক্রোবাসে অগ্নিকাণ্ড, যাত্রীরা নিরাপদে নামতে সক্ষম

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আসামিদের আদালতে আনা হয়। এ সময় আসামি জিন্নাত দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অপরদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি বিল্লাল (২৯), মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

আরও পড়ুন: বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা

পরে আদালত আসামিদের বক্তব্য শুনতে চাইলে আব্দুল কাদির জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সে সময় তিনি কাজে ছিলেন। আরেক আসামি রিয়াজ জানান, একটি ফোনকলের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। পরে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়াস্থ হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মোসাব্বিরকে (৪৪) হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। এতে মোসাব্বিরসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শনিবার ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই শ্যুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।