বেপরোয়া গতি আর আইন অমান্য বাড়ছে প্রাণহানি
পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে এখন মরণফাঁদ
রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে যে সড়কটি এক সময় আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিই এখন ভয়ংকর দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বাচল এলাকার এই ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতামূলক চালনা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পুরো সড়কটি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে এই সড়কে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই সড়ক যেন অনিয়ন্ত্রিত গতির রেস ট্র্যাকে পরিণত হয়,এতে দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। কেউ হারাচ্ছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে,কেউ হারাচ্ছেন সন্তান কিংবা স্বজনকে। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আশপাশের এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ,পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে নিয়মিত টহল ও কার্যকর নজরদারি না থাকায় চালকদের মধ্যে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ চালকই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং ট্রাফিক আইন মানার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাদের মতে, মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত না হওয়ায় পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে দিন দিন সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। গাড়িগুলো এত দ্রুতগতিতে চলাচল করে যে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা পার হওয়াই এখন বড় ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে বের হলে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। তারা জানান,উন্নত সড়কের পাশাপাশি তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পুলিশি টহল ও কঠোর নজরদারি, যাতে মানুষ নিশ্চিন্তে রাস্তা ব্যবহার করতে পারে।এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী এক প্রাইভেটকার চালক বলেন,৩০০ ফিট রোডে ঢুকলেই চারদিক থেকে দ্রুতগতির গাড়ি চাপ দেয়। স্পিড না তুললে অন্য গাড়ির ঝুঁকিতে পড়তে হয়। অনেকেই হাই বিম জ্বালিয়ে ও হর্ন দিয়ে সরে যেতে বাধ্য করে। এখানে আইন মানার চেয়ে দ্রুত চালানোই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।স্থানীয় সাংবাদিক রিপন মিয়া বলেন,এই সড়কের দুর্ঘটনার খবর প্রায়ই আমাদের কাভার করতে হয়। মাঝেমধ্যে অভিযান দেখা গেলেও সেটি স্থায়ী সমাধান নয়। কেউ আইন মানে না। নিয়মিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি না থাকলে দুর্ঘটনা কমবে না।
আরও পড়ুন: নবনিযুক্ত ডিএসসিসি প্রশাসক: সেবা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হবে প্রধান কাজ
পূর্বাচল অংশে দায়িত্বপ্রাপ্ত এশিয়ান হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা সোহেল মিয়া বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অতিরিক্ত গতির বিরুদ্ধে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টহল জোরদার রাখা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা কমানো যায়। সবাইকে ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,দুর্ঘটনা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো নিজের জীবনের প্রতি সচেতন থাকা। একটি দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন চালক নিজেই। এই সড়কে যারা গাড়ি চালাতে আসবেন, সবাইকে অনুরোধ করব ট্রাফিক আইন মেনে এবং নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করে গাড়ি চালাবেন।সরেজমিনে দেখা গেছে,সড়কটির দীর্ঘ অংশজুড়ে কার্যকর স্বয়ংক্রিয় স্পিড মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনেজের ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি অংশে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা দুর্বল এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।সচেতন মহলের মতে, পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েকে নিরাপদ করতে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় স্পিড ডিটেকশন ক্যামেরা ও ই-চালান ব্যবস্থা চালু করা, দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টে স্থায়ী ট্রাফিক পোস্ট বসানো, স্পষ্ট সাইনেজ স্থাপন এবং নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে আগামীতেও দুর্ঘটনার ভয়াবহতার প্রতীক হয়েই থাকবে।
আরও পড়ুন: রমনা বিভাগের ডিসিকে অপসারণ দাবিতে শাহবাগে ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ





