রূপগঞ্জে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি হিন্দু মন্দিরে সশস্ত্র হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাতে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট পশ্চিম মনিপাড়া এলাকার শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে এ নেক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালিপদ চন্দ্র দাস বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। তারা মন্দিরে থাকা সরস্বতী প্রতিমা, চেয়ার, পাতিল, বৈদ্যুতিক তার, লাইটসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে প্রতিমার গায়ে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় হামলাকারীরা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ: শিশুসহ দগ্ধ ৭
এরপর কেরোসিন বা দাহ্য পদার্থ ঢেলে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। অগ্নিসংযোগে মন্দিরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে যায়। ভাঙচুর ও আগুনের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।কালিপদ চন্দ্র দাস আরও বলেন, মন্দিরের জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী সিংলাব এলাকার জাকির হোসেন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর আগেও ওই পক্ষ থেকে মন্দিরে হামলা ও ভয়ভীতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গভীর রাতে মন্দিরে সশস্ত্র হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো শাওঘাট ঋষিপাড়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হামলা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
আরও পড়ুন: নবীগঞ্জে সেনা অভিযানে মদ ও নগদ টাকা উদ্ধার, আটক পাঁচ
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) মেহেদী হাসান বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।





