১৩ উপজেলায় চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, উদ্বোধন ১০ মার্চ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪১ অপরাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও আর্থিক তথ্যের ঘাটতির কারণে নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে। সুবিধাভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথম অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে, ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।

অর্থ বিভাগের সচিব জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যকর হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা প্রতিরোধে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারে পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য পৃথক কার্ড দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্ধারিত ভাতা পেতে পারবেন।

১০ মার্চ ২০২৬ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন। ১৩ উপজেলার ১৩ ওয়ার্ডে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে নারীপ্রধান প্রতিটি খানার নামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ। নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা বহাল থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যে এলাকাগুলোঃ বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাগঞ্জ।