আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি বিশ্বের মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেন।
প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে মানবজাতির হেদায়েতের আলো নিয়ে আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ওফাত লাভ করেন।
আরও পড়ুন: রবিউল আউয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তার আবির্ভাব ও ইসলামের শান্তির বাণীর প্রচার বিশ্ব ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। মহানবী (সা.) মানুষকে অন্ধকার ও অজ্ঞতা থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেন। তার শিক্ষা, আদর্শ ও সংগ্রামে তৎকালীন ‘জাহেলি’ সমাজে ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠা ঘটে।
মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কার অভিজাত কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। অল্প বয়সে মা ও দাদাকেও হারান। ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর আল্লাহর বাণী প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বানে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
আরও পড়ুন: বায়তুল মোকাররমে বিশেষ বয়ান ও জুমার খুতবা দেবেন দেওবন্দের মুহতামিম
তার জীবন ও আদর্শ মুসলমানদের জন্য চিরন্তন অনুসরণীয়। সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা, মানবিক মর্যাদা ও শান্তির যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা ব্যক্তি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করছেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশে সাধারণ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। মহানবী (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বরেণ্য আলেম-ওলামারা বয়ান করবেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সিরাত স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ সাহানে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-নাত মাহফিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে রচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার করবেন। তার শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়, সম্প্রীতি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন।





