কোটি কোটি টাকার অবৈধ আয় নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রধারী তৎপরতা

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প মাদকের নিরাপদ কারখানা

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ন, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০২ অপরাহ্ন, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • মাদকদ্রব্যের কর্মকর্তারা পাচ্ছে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের নিষিদ্ধ মাদক বাণিজ্যের নিরাপদ কেন্দ্রীয় হাব ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে মাদকসহ নানা অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলেও ৫ আগস্টের পর নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে সন্ত্রাসীদের খুন-খারাবিতে অতিষ্ঠ নগরবাসী। শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে উঠতি সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীদের  চলাচল এখানেই।  অভিযোগ আছে ঢাকার সবচেয়ে বড় মাদকের এই অবৈধ বাণিজ্যের সাথে গোপন আঁতাত আছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। শেরে বাংলা নগর সার্কেলের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চললেও কোন অভিযান নেই। 

আটকে পড়া পাকিস্তানিদের আবাসস্থল মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক বিক্রি, অস্ত্রের ঝনঝনানি, খুন-ছিনতাইসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা ঘটছে না এখানে। ঢাকার জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে বিবেচিত হয় স্থানটি। কারণ, এখানে বসে জমজমাট মাদকের হাট। সব ধরনের মাদকের পসরা বসে জেনেভা ক্যাম্পে। মাদক কেনা থেকে সেবন- সব যেন চলে নির্বিঘ্নে। সরকার আসে, সরকার যায়; শুধু জেনেভা ক্যাম্প থেকে যায় স্বমহিমায়। দেশের সব স্থান থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হলেও ক্যাম্পটি থেকে যায় মাদক কারবারিদের দখলে।

আরও পড়ুন: চার হত্যা মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বোমা কাল্লু গ্রেপ্তার

ক্যাম্পে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে ১১ হাজারের বেশি মানুষ ভোটার হয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় পরিচয়পত্রও। তবে তাদের অনেকেই নিজেদের এখনো আটকে পড়া পাকিস্তানিই মনে করেন। যাদের অনেকের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ লক্ষ করা যায়। এজন্য রাজনৈতিকভাবেও তাদের ব্যবহার করা হয়। প্রভাবশালীদের মদদে কেউ কেউ ক্ষমতার আধিপত্যও খাটান ক্যাম্পে। অশিক্ষা আর দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এ ক্যাম্পের লোকজনকে মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধে যুক্ত করছে এই চিহ্নিত অপরাধীরা।

ক্যাম্প ঘিরে বছরে ১৫০ কোটি টাকার লেনদেন

আরও পড়ুন: সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করতে চাই: ড.এম এ কাইয়ুম

“বছরে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার মাদক বিক্রি হয় জেনেভা ক্যাম্পে। ফলে এটি এখন অনেকের কাছে ‘মধুর হাঁড়ি’র মতো। মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণে লড়াই-সংগ্রাম চলে অবিরত” - বলেন জাহিদ ওরফে ডিলার জাহিদ। এ মাদক কারবারি বলেন, ‘আগে এ জেনেভা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণ করত নাদিম ওরফে পঁচিশ ও ইশতিয়াক। ২০১৮ সালে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নাদিম নিহত হন। দুই বছর পর জানা যায়, ভারতে পলাতক অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ইশতিয়াক। এখন ১১/১২টি গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছে জেনেভা ক্যাম্প।’

শূন্যস্থান দখলে মরিয়া ১১ গ্যাং

ঢাকাসহ সারা দেশে মাদক কারবারে জড়িত বড় বড় ডনের জন্ম এখানে। জেনেভা ক্যাম্প ঘিরে চলে তাদের আধিপত্যের লড়াই। আগে দেশীয় ধারাল অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দিয়ে হতো লড়াই, এখন হয় আগ্নেয়াস্ত্রে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্যাম্পের দখল কিংবা বেদখল ঠেকাতে আগ্রাসী হয়ে ওঠে ১১টি গ্যাং। এখানে পৌনে দুই মাসের সংঘাতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন চারজন, আহত অর্ধশতাধিক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সক্রিয় অন্তত ১১টি মাদক কারবারি গ্যাং। তারা হলো- ভূঁইয়া সোহেল গ্যাং, সৈয়দপুরিয়া গ্যাং, আরমান গ্যাং, ছটু/ছটা মাসুদ রানা গ্যাং, মনু গ্যাং, চারকু গ্যাং, কোপ-মনু গ্যাং, রাজু গ্যাং, কামাল বিরিয়ানি গ্যাং, চুয়া সেলিম গ্যাং ও পলু কসাই গ্যাং।

সৈয়দপুরিয়া গ্যাংয়ের অধিকাংশই নারী সদস্য। তাদের অন্যতম বিউটি। মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা অন্তত তিনটি মাদক মামলার আসামি তিনি। তবে, ধরা পড়েছেন মাত্র একবার। তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের পর পৌনে দুই মাসে ৫৫ লাখ টাকার মাদক কেনাবেচায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। জেনেভা ক্যাম্পে এখন চারটি গ্রুপ (গ্যাং) খুবই আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা হলো- ভূঁইয়া সোহেল গ্যাং, সৈয়দপুরিয়া গ্যাং, ছটু/ছটা মাসুদ রানা গ্যাং ও চুয়া সেলিম গ্যাং।

জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবারিরা বেপরোয়া

জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বুনিয়া সোহেল, পিচ্চি রাজা ও চুয়া সেলিম গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হচ্ছে। তাদের সংঘর্ষে জাহিদ নিহত হয়েছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, একাধিক মামলায় জামিনে থাকা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বুনিয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, গালকাটা মনু, শাহ আলম, ইমতিয়াজ, পিচ্চি শামির, পিচ্চি রাজা, বড় রাজু, শাহজাদা, টুনটুন ও নাদিম ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাচ্ছেন। প্রত্যেকেরই আলাদা গোষ্ঠী রয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর যৌথবাহিনীর অভিযানে এসব কারবারি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বের হয়ে ফের পুরোনো অবস্থানে ফিরে যান। বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। চুয়া সেলিম, পিচ্চি রাজাসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও ১০ থেকে ১২টি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা আছে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রীতিমতো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধীরা। ৫ আগস্ট এবং পরবর্তী সময়ে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়ে গোলাগুলিতে জড়িয়েছে ক্যাম্পের একাধিক গ্রুপ। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৭ জন নিহত আর কয়েকশ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এ ক্যাম্পে প্রায় দেড় হাজার অপরাধী মাদকসহ বিভিন্ন আপরাধ সিন্ডিকেটে জড়িত। ক্যাম্পে সশস্ত্র অপরাধীর সংখ্যা তিন শতাধিক। 

সরেজমিনে জেনেভা ক্যাম্পের এ-ব্লক ও বি-ব্লক ঘুরে মাদক বিক্রির নানা চিত্র দেখা গেছে। ক্যাম্পের এ-ব্লকের একটি গলিপথে দাঁড়িয়ে মাদক বিক্রি করছেন দুই যুবক ও তিন তরুণী। কথা বলে জানা যায়, তাদের কাছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক আছে। কেউ বসে সেবন করতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও করে দেন তারা। ক্যাম্পের এ-ব্লক, বি-ব্লকের অন্তত চারটি গলিতে মাদক ব্যবসা দিনরাত চলে। এ এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক পিচ্চি রাজা। তিনি ক্যাম্পে অবস্থান করেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। 

বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৪ ও ৭ নম্বর সেক্টরে ঘুরে দেখা যায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আনাগোনা। ৭ নম্বর সেক্টরের একটি গলিতে দেখা যায় উচ্চৈঃস্বরে গান বাজছে। আশপাশে তরুণ-তরুণীদের ভিড়। মূলত এর আড়ালে বিক্রি হচ্ছে মাদক। ক্রেতারা আসছে, কিনে আবার চলে যাচ্ছে। নেই কোনো বাধা কিংবা ভয়ডর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্পের এক বাসিন্দা জানান, ৯টি সেক্টরের সবকটিতেই চলে মাদক বাণিজ্য। অস্ত্রও পাওয়া যায় এখানকার কারও কারও কাছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তরুণী জানান, তিনি কমিশনে ইয়াবা বিক্রি করেন। এক পিস বিক্রি করলে পান ৫০ টাকা। তবে তিনি কার কাছ থেকে মাদক আনেন, তা জানাতে চাননি। 

স্থানীয় বাসিন্দা কালু জানান, একসময় ক্যাম্পের মাদক ও অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইশতিয়াক ও পঁচিশের হাতে। ইশতিয়াক ভারতে করোনায় মারা যান, আর পঁচিশ নিহত হন ক্রসফায়ারে। এরপর থেকে বুনিয়া সোহেল ও চুয়া সেলিম গ্রুপের দুই ডজন মাদক ও অস্ত্র কারবারি ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে মারামারি-গোলাগুলি করে ক্যাম্পকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলে। বোমা ও গুলির আঘাতে নিহত হন অন্তত সাতজন। আর আহত হন নারী-শিশুসহ শতাধিক মানুষ। 

সূত্র জানিয়েছে, চুয়া সেলিমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ক্যাম্পের দুই, চার ও আট নম্বর সেক্টরে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত উলটা সালাম, সনু, সোহেল কসাই (গ্রেফতার), গাল কাটা মনু, কালা ইমরান, আরমান, আকরাম, গেইল হীরা, শান্ত, পিচ্চি রাজা, ফাট্টা আবিদ, পিস্তল নাঈম, শাহজাদা, ক্যালকাটা মনু, ইরফান, জিন্দা রনি ও কামাল। তাদের কেউ কেউ অস্ত্র চালনায় বেশ পারদর্শী। 

অন্যদিকে বুনিয়া সোহেলের একক আধিপত্য সাত নম্বর ক্যাম্পে। বুনিয়া সোহেল গ্রেফতার হওয়ার পরও সক্রিয় রয়েছে তার সহচররা। তার হয়ে কাজ করছে কালো, আকরাম, বেজি নাদিম, টুনটুন, রানা, রাজন ওরফে কালু, কলিম জাম্বু, মোহাম্মদ আলী, আহম্মদ আলী ও আরিফ। বুনিয়া সোহেল সম্প্রতি গ্রেফতার হলেও তার অনুসারীরা তৎপর রয়েছে। 

ক্যাম্পে ফেনসিডিলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তানি রাজু, হেরোইন বুনিয়া সোহেল, ইয়াবা চুয়া সেলিম আর গাঁজার ব্যবসা পরিচালনা করে টুনটুনের লোকজন। টুনটুন বুনিয়া সোহেলের ভাই। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের সংগঠন স্ট্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি এসপিজিআরসিকে মাসোয়ারা দিয়ে চলে ক্যাম্পের মাদকের বাণিজ্য। তবে এ বিষয়ে এসপিজিআরসির আহ্বায়ক এম শওকত আলী বলেন, মাদক ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে সহিংসতা হচ্ছিল। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে মাদক বিক্রি এখনো বন্ধ হয়নি। এসপিজিআরসির ব্যাপারে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তারাই এমন অভিযোগ করছেন। 

এসপিজেআরসির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, ক্যাম্পের পরিস্থিতি আগের চেয়ে শান্ত। তবে মাদক ব্যবসা এখনো থামেনি। 

পুলিশ কর্মকর্তারা কী বলছেন

পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ঢাকার রেলওয়ে থানা (কমলাপুর) ছাড়া ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫০ থানার মধ্যে অপরাধ কর্মকাণ্ডের শীর্ষে মোহাম্মদপুর থানাকে এগিয়ে রয়েছে। শুধু এই এক থানা এলাকায় অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। ২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পরে পুলিশ ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় হয়েছে। মানসিক ট্রমা, মানে ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পড়তে না হতো, তাহলে এই অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের কোনো ব্যাপারই ছিল না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, গত তিন মাসে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক হাজার থেকে ১২শ’ অপরাধী গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ফেরারি আসামি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, চোর, এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীসহ নানান রকমের অপরাধী রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও কিছু অপরাধী জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধের কাজে জড়িত হয়ে পড়ে। আবারও অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য

মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, অপরাধীরা বেপরোয়া হওয়ার একমাত্র কারণ, পুলিশের হুংকার আগের মত নেই। এই সুযোগটাই অপরাধীরা নিচ্ছে। আপনারা নিজেরাই দেখতে পারছেন, এক এলাকায় পুলিশ প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে, প্রতিদিন অপরাধীদের ধরছে। মনে হচ্ছে কোনো দুর্গম এলাকায় বারবার পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, আর অপরাধীরা পালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এটি রাজধানীর একটি নামকরা এলাকা। আগে এক এলাকায় পুলিশ গেলে সে এলাকায় আর অপরাধীদের অস্তিত্ব থাকতো না মাসের পর মাস। এক সময় ছিল যখন মানুষ পুলিশকে দেখলেই ভয় পেত, অপরাধীরা তো দূরেই থাকতো। কিন্তু এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, অনেক সময় পুলিশই অপরাধীদের দেখে সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশকে আগের মতো শক্ত অবস্থানে ফিরতে হবে, যাতে অপরাধীরা পুলিশকে দেখেই ভয় পায়। এজন্য পুলিশের কাজ হতে হবে আরও কঠোর এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমানভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ সকল অভিযোগ এবং কেন ক্যাম্পের মাদক দৌরাত্ব কমানো যাচ্ছে না এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)  এর উপ-পরিচালক শামীম আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোহাম্মদপুর সার্কেলের পরিদর্শক আহসান হাবীব বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন, জেনেভা ক্যাম্পের মাদকের দৌরাত্ম আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত এখানে টহল পরিচালনা করে আসছে। তবে তিনি জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।