দখলমুক্ত হলো জসিমউদ্দীন–পাকার মাথা ফুটপাত: স্বস্তি ফিরল পথচারীদের মাঝে

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে জসিমউদ্দীন থেকে পাকার মাথা হয়ে প্রিয়াঙ্কা সিটি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমানবন্দর থানা পুলিশ। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট। এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় থানা পুলিশ।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোবারক হোসেন বলেন, “রমজান মাসেও ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনস্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত সম্পূর্ণ অবমুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাতে কেউ পুনরায় অবৈধভাবে দোকান বসাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

আরও পড়ুন: তেল সংকটে দিন দিন থমকে যাচ্ছে রাজধানী: দীর্ঘ লাইন, রেশনিং আর বিশৃঙ্খলায় জনজীবন জিম্মি

সরেজমিনে দেখা যায়, জসিমউদ্দীন–পাকার মাথা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, চা-পুরি-সিঙ্গারা, ফলের দোকান, ভাঙারি, বাঁশ-কাঠের দোকান, চেয়ার-টেবিল ও পান-বিড়ি-সিগারেটের শত শত দোকানপাট গড়ে উঠেছিল। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে ব্যস্ত সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ দোকান থেকে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত, যার পরিমাণ মাসে লাখ টাকায় পৌঁছাত। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু পাতি নেতার মদদে ফুটপাত দখল দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী রূপ নিয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন: তেল বিতরণে অব্যবস্থাপনায় তীব্র যানজটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

উল্লেখ্য, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে উত্তরা জসিমউদ্দীন থেকে পাকার মাথা পর্যন্ত ফুটপাত সংস্কার করে। কিন্তু দখলদারদের কারণে সাধারণ মানুষ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। যৌথ অভিযানের পর এখন ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন পথচারীরা।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা দখলমুক্ত ফুটপাত স্থায়ীভাবে বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারির দাবি করেছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, “ফুটপাত যদি পথচারীর জন্যই না থাকে, তাহলে সংস্কার করে লাভ কী?”

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন।