বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ধস
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার প্রভাবে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নিম্নমুখী হয়েছে। শুক্রবারের লেনদেনেও স্বর্ণের দর কমেছে, ফলে সাপ্তাহিক হিসাবেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বাজার।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল শেষে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৫১ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুন: চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭১ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনা স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: এলপি গ্যাসের দাম কমল ৫৫ টাকা
এ বিষয়ে এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও বাজারের মনোভাব পরিবর্তনের পাশাপাশি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫১ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের নন-ফার্ম পে-রোলস (কৃষি খাত বাদে কর্মসংস্থান) প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভারের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফলে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।





