কাপাসিয়ায় দিনব্যাপী ‘গ্রাম আদালত বিষয়ক’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Sanchoy Biswas
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৫৭ অপরাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৯ অপরাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ জুন বুধবার সকালে পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে—চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম।

আরও পড়ুন: বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১টি জেলার মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও অফিস কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাস ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন শামীম, আব্দুল কাইয়ুম, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আকরাম হোসেন রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিব খানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষা উন্নয়ন ও জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে: এমপি ডা. বাচ্চু

কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, ঝগড়া-বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোনো নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

বিরোধী পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।

দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হওয়ার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।