বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস।
শুক্রবার এ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নীতি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত ক্ষমতার সীমার মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিধিবদ্ধ ক্ষমতারও সীমা অতিক্রম করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সময় কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে: ইরান
রায়ের লিখিত অনুলিপিতে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চালু রাখা বা স্থগিত করার যে নীতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ভিসানীতি ও মন্ত্রণালয়ের আইনগত এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলাসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া, গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পর্যালোচনা এবং গ্রিনকার্ড প্রস্তুতের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন যুক্তিতেই স্থগিতাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানহাটান জেলা আদালতে মামলা করে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার। ওই মামলার শুনানি শেষে শুক্রবার নীতি বাতিলের রায় দেন বিচারক জ্যানেট ভার্গাস।
এটি ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রায়। এর আগে ৩ আগস্ট কলাম্বিয়া জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ডের আবেদন পর্যালোচনায় দেওয়া স্থগিতাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।





