মেটলাইফের গবেষণা: জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে নিয়োগদাতাদের পাশে চায় কর্মীরা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের কর্মীরা শুধু পেশাগত উন্নয়ন নয়, জীবনের কঠিন ও সংকটময় সময়েও নিয়োগদাতাদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী আকস্মিক আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের সময় নিয়োগদাতাদের পাশে পেতে চান।

গবেষণাটি কর্মক্ষেত্রে আরও মানবিক, সহানুভূতিশীল ও কর্মীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে। এতে দেখা গেছে, কর্মীরা এখন শুধু কর্মজীবনের উন্নয়ন নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন মুহূর্তগুলোতেও প্রতিষ্ঠানের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

আরও পড়ুন: আবার কমল সোনা-রুপার দাম

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪৩ শতাংশ কর্মী আকস্মিক আর্থিক চাপ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়কে এমন একটি পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যখন নিয়োগদাতাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এছাড়া ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, ২৪ শতাংশ কর্মী পারিবারিক পরিচর্যার দায়িত্ব এবং ২১ শতাংশ কর্মী গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতাকে গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে, আর্থিক ধাক্কা, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়োগদাতাদের সহযোগিতা কর্মীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আরও কমল স্বর্ণের দর

যদিও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭২ শতাংশ কর্মী মনে করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রতি যত্নশীল; তবে মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয়ভাবে সুপারিশ করতে আগ্রহী। এটি কর্মীদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানের ইঙ্গিত দেয়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কর্মীরা শুধু নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব সংকটকালে দৃশ্যমান ও কার্যকর সহায়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ কর্মী নমনীয় ছুটির নীতিকে (ফ্লেক্সিবল লিভ পলিসি) গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ কর্মী সংকটকালে কাজের চাপ কমানো এবং ২২ শতাংশ কর্মী কাজের সময়সূচির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে এ ধরনের মানবিক কর্মপরিবেশের চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণাটি আরও দেখিয়েছে, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। প্রায় ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে এসব সুবিধায় সন্তুষ্ট কর্মীরা কাজে বেশি মনোযোগী হন এবং প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সহানুভূতির সঙ্গে সাড়া দেয়, তারা সহজেই কর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পারে, কর্মসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, “বর্তমান সময়ের কর্মীরা প্রত্যাশা করেন যে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিয়োগদাতারা তাদের পাশে থাকবেন। তা আর্থিক চাপ, স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব—যাই হোক না কেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যখন এমন সময়ে কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মীদের আনুগত্য আরও শক্তিশালী হয়।”

তিনি আরও বলেন, দেশের শীর্ষ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেটলাইফ নিয়োগদাতাদের এমন কার্যকর সমাধান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।