ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়ম, সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পূর্বপ্রস্তুত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২০ জুন ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মধুখালী উপজেলার নিজ বাড়ির সামনে থেকে ১০০ গ্রাম গাজা সহ ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে আটক করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে এক হাজার ইয়াবা সহ একটি মাদক মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। মামলা নং –৯ তারিখ প্রদান করে ১৩ এপ্রিল ২০১৬ । এই মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে চাজশিটও প্রদান করে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিবি হেফাজতের গারদ খানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর নরমাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে চিকিংসা চলাকালীন অবস্থায় প্রায় চার ঘন্টা পর ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মারা যায়। গারদ খানায় থাকা অবস্থায় প্রান্ত অসুস্থ হওয়ার ঘটনা অন্য আসামীরাও তাদের জবানবন্দি প্রদান করে। সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দাবি করেন, প্রান্তের মৃত্যু মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে হয়েছে এবং পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার প্রমাণ মেলেনি এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডও মৃত্যুর কারণ হিসেবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্বাভাবিক স্ট্রোকের মতামত দেয়।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত চলাকালে কয়েকজন সাক্ষীকে পূর্বপ্রস্তুত বক্তব্যে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি তিন সদস্যের হলেও অধিকাংশ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামের একাই।
সুত্র জানায়, ফাতেমা ইসলাম, পুলিশের ত্রিশ ব্যাজের একজন কর্মকর্তা । তিনি পুলিশে নিয়োগ পার 2012 সালে খোদ আওয়ামী লীগ পরিবারে সন্তান হিসাবে। ফাতেমা ইসলামের সাথে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সাথে ভালো সম্পর্কের কারেন আওয়ামী লীগ আমলে তার ভলো জায়গার পোস্টেং ছিল।
অভিযোগে একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ একাধিক সাক্ষীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তারা লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন।





