বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার, মিলবে বাড়তি প্রণোদনা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৬ অপরাহ্ন, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে বাংলা কিউআর লেনদেন বাড়াতে বাড়তি প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফলে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে কার্ড ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না।

আরও পড়ুন: আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের নতুন প্রেসিডেন্ট আজাদ, সেক্রেটারি ফারুক

সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে পৃথক সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২। সার্কুলারটি দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনাটি সংশোধিত বলে গণ্য হবে এবং অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে ১ অক্টোবর থেকে গত ১ জুলাই জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনাগুলো রহিত হবে।

আরও পড়ুন: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

অন্য এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পরিশোধ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পাদিত প্রতিটি ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

শর্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.২০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একক লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করা, ট্রানজেকশন স্ট্রাকচারিং করা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না। বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতেও প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সরবরাহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।

কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে অথবা ভুলবশত প্রণোদনা দেওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত নিতে পারবে। প্রয়োজনে পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে তা সমন্বয় করা হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে।

কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া বা সমন্বয়ের পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।