সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৭৬ জন উদ্ধার, আটক ১১

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:২১ পূর্বাহ্ন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বিপদে পড়া একটি বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী জানায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেন্ট মার্টিন লাইট হাউস থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে সমুদ্রে একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১। বোটটির ইঞ্জিন বিকল ছিল এবং সেটিতে কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

খবর পেয়ে সেন্ট মার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটি উদ্ধার করে। এ সময় বোটটিতে পানি ঢুকতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমন রিমান্ডে

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তাদের আটক করেছে নৌবাহিনী। বাকি ৬৫ জনকে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার ব্যক্তিদের অধিকাংশকে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখেছিল। পরে তাদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ওই বোটে তোলা হয়। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নৌবাহিনী বলছে, বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে পানি প্রবেশ করায় সেখানে থাকা ৭৬ জনের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। সময়মতো অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সমুদ্রে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।