রমজানে ছুটি সংশোধনের দাবি প্রাথমিক শিক্ষকদের

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:০১ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রোজা রেখে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও অংশগ্রহণের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। একই সঙ্গে চলতি বছরের ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার ছুটি গণনায় অসংগতি এবং রমজান মাসে পর্যাপ্ত ছুটি না রাখায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান যৌথভাবে সই করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলি সই করা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে দাপ্তরিকভাবে এই তালিকার সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপনের নতুন নির্দেশনা

সংগঠনটি জানায়, যদি ভাইরাল হওয়া ছুটির তালিকাটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে একাধিক অসংগতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত ভুল বা মুদ্রণজনিত সমস্যার ফল হতে পারে। অতীত বছরগুলোতে শুক্র ও শনিবারকে ছুটির তালিকায় ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হলেও চলতি তালিকার ২, ৬, ১৩, ২০, ২২ ও ২৩ নম্বর ক্রমিকে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।

তবে একই তালিকার ৮ নম্বর ক্রমিকে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে গণনা করা হয়েছে। আবার ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ১০ দিনের ছুটির মধ্যেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে ৮ নম্বর ক্রমিকে ৪ দিন এবং ২৮ নম্বর ক্রমিকে ২ দিন—মোট ৬ দিন অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে যুক্ত হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

আরও পড়ুন: পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই শীর্ষ পদে শিবির প্রার্থীদের জয়ের কারণ কী?

এই ধরনের অসামঞ্জস্য শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং দ্রুত সংশোধন জরুরি।

এ ছাড়া রমজান মাসে পর্যাপ্ত ছুটি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, সিয়াম পালন করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থীও রোজা রেখে বিদ্যালয়ে আসে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী। বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাসায় ফিরে ইফতার প্রস্তুতির অতিরিক্ত চাপ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।