বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের খায়রুল বাশার বাহারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:০২ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আরও পড়ুন: ৯৯৯-এ ফোনের দুই ঘণ্টায় ডাকাতি হওয়া ৩১টি গরুসহ ট্রাক উদ্ধার, মিনিট্রাক জব্দ

সিআইডি জানায়, মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

এ ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গুলশান (ডিএমপি) থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা (নং-০৫, তারিখ: ৪ মে ২০২৫) দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও যানজট, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে ডিএমপির আহ্বান

সিআইডি জানায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৫ ধানমন্ডি এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খায়রুল বাশার বাহারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি রাজধানীর ভাটারা এলাকায় প্রথম স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা (ডোনা)-এর নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট, নিজের নামে রাজাবাজার এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর আজিজ সড়কে জি+৭ ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবনসহ নিজ ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এসব সম্পদের দলিলমূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত অভিযুক্তের নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খায়রুল বাশার বাহার নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও, তার বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।