সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ৭-৮ জন সন্দেহভাজন চোরাকারবারি দুটি বাইসাইকেল ও মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। শুক্রবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে বিজিবির সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আলীনগর বিওপির একটি টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাগলপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ২০১৪/২-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান নিয়ে টহলদল নজরদারি চালায়। একপর্যায়ে ভারত থেকে দুটি বাইসাইকেলে চটের বস্তা বহন করে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা বস্তা ও বাইসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ফতেহপুর জামশেদীয়া দরবার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন
পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া বস্তাগুলো তল্লাশি করে কার্টনের মধ্যে কসটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার ৯৬০টি ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এবং জব্দ করা দুটি বাইসাইকেলসহ মোট মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। জব্দ করা মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ও অন্যান্য আলামত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আরও পড়ুন: গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ কাস্টমস কর্মীর মরদেহ ১৫ টুকরো, গ্রেপ্তার ২
এ বিষয়ে সরাইল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, "বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক"—মহাপরিচালকের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরাইল ব্যাটালিয়ন সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির সরাইল ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারির আওতায় রয়েছে। সীমান্তভিত্তিক অপরাধ দমন ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।





