আশ্রমের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ: সজীব রুবেলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর খোলা চিঠি
চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গের কার্যকরী সভাপতি সজীব সিংহ রুবেলের নিয়মিত আর্থিক আত্মসাৎ, জমি দখল ও প্রতিষ্ঠান লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন।
চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গের শান্তিপ্রিয় ও সাধারণ ভক্তবৃন্দ অত্যন্ত বিনীতভাবে জানাই যে, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একজন অসাধু ব্যক্তির কবলে পড়ে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আপনি সিলেট জেলায় যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে শৃঙ্খলায় এনেছিলেন, ঠিক সেই আদর্শ অনুসরণ করে চট্টগ্রামের দেওয়ানজি পুকুরপাড় আশ্রমকেও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার আওতায় আনার জন্য আমরা আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরও পড়ুন: ফতেহপুর জামশেদীয়া দরবার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন
সজীব সিংহ রুবেল বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
প্রতি মাসে আশ্রম থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উত্তোলিত হয়। এর মধ্যে নামমাত্র অংশ প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে জমা দিয়ে বাকি বৃহৎ অংশ তিনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন।
আরও পড়ুন: গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ কাস্টমস কর্মীর মরদেহ ১৫ টুকরো, গ্রেপ্তার ২
আশ্রমের ইট, সিমেন্ট, রং, বালি ইত্যাদি উপকরণ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণ করেছেন। আশ্রমের টাকায় পাবনা সফর, পরিবারের ভ্রমণ ও বিলাসিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি ঘাটফরহাদবেগ ও দেওয়ানজি পুকুরপাড় এলাকায় বিশাল বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যার অর্থের উৎস মূলত আশ্রমের ফান্ড।
তিনি একজন চিহ্নিত ভূমিদখলকারী ও ভূমিদস্যু। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী নিজ হাতে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে জেলে পাঠিয়েছিলেন।
যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তিনি সেই সরকারের লেবাস ধারণ করেন। বিভিন্ন সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ঘটনায় তাঁর নামে একাধিক মামলা হয়েছে।
তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর ও চতুর প্রকৃতির। মুখে ঠাকুরের নাম ও ভক্তির কথা বললেও বাস্তবে আশ্রমের টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপোষণ করে চলেছেন। ফলে সাধারণ ভক্তরা আতঙ্কিত ও হতাশ।
আমাদের আবেদন
মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়, সিলেটের ন্যায় চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গকেও অনিয়মমুক্ত ও শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার জন্য আপনি যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আশ্রমের টাকার সঠিক হিসাব-নিকাশ, ব্যয়ের বিবরণী এবং তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা সাধারণ ভক্তবৃন্দ আপনার ন্যায়পরায়ণতা ও দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রত্যাশায় রইলাম।





