প্রাথমিক বিদ্যালয়েই মিলবে চিকিৎসা ও পুষ্টি পরামর্শ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে স্কুলেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি রূপরেখা পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে অনুমোদন মিললে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার কার্যক্রম শুরু হবে।
আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপনের নতুন নির্দেশনা
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঠানো চিঠিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ, ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা।
নতুন রূপরেখা অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত মানের ফার্স্ট এইড বক্স, ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র, রক্তচাপ (বিপি) মাপার মেশিন এবং রক্তে সুগার লেভেল পরীক্ষার যন্ত্র সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে।এছাড়া বয়স ও ওজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যের তালিকা সংবলিত পোস্টার ও লিফলেট বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনেই শীর্ষ পদে শিবির প্রার্থীদের জয়ের কারণ কী?
রূপরেখায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে অথবা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন এবং শিক্ষকদের জন্য ‘সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে রূপরেখায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্কুল থেকেই চিকিৎসা ও পুষ্টি পরামর্শ দেওয়ার ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে। নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।





