চবিতে নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়োগ: ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতিনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতিকেই গুরুত্ব দিয়ে চলমান রাখা হয়েছে সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি। কোনো বাধাই যেন মানতে চায় না বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন। গত বছর ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চলমান সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।
তারপরও এবারের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১১৩ জনকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি এবং নীতিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতি পেয়েছেন বিশের অধিক। এই সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রাপ্তদের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা মাউশির
এরূপ নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়টির নানা ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে, তবে নীরব ভূমিকা পালন করছে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদের সদস্যরা। ধারাবাহিক এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ১৪ জানুয়ারি শাখা ছাত্রদল প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী ও মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯:৩০ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে চবি শাখা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন এবং তাদের বাধার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: জবিতে সরস্বতী পূজায় এবারও নারী পুরোহিত
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ এবং নীতি বহির্ভূত নিয়োগ তদন্ত সাপেক্ষে বাতিল করা হোক।
গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সিন্ডিকেটে ১০০-এর অধিক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে। দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গত ৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১১৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রভাষক হয়েছেন উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা খান, জামায়াতপন্থি শিক্ষক ড. বেগম ইসমত আরা হকের ছেলে মোহাম্মদ রাফি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মো. আব্দুল কাইয়ুম। রীতিমালা উপেক্ষা করে পদোন্নতি পেয়েছেন জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা—হাটহাজারী উপজেলা আমীর এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত সাবেক প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া পদোন্নতি পাওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদ শহীদুল হক, আবুল হাসান মুহাম্মদ নাঈমুল্লাহ (পেশ ইমাম), আবদুস শুকুর (ক্যাটালগিং), মীর মোঃ মোছলেহ উদ্দীন (পেশ ইমাম), মোঃ হাসানুজ্জামান (পেশ ইমাম), মোহাম্মদুল হক, মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন।
দলীয়করণকে পাকাপোক্ত করতে বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বাংলা ও ফারসি বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
সিন্ডিকেটের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় মোট ২১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমকর্তা ৮ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৮৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদন করেছে সিন্ডিকেট।





