ইরান যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথ আলোচনায়
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৮ মার্চ) এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়টি একটি ‘যৌথ’ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং তিনি ও নেতানিয়াহু এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক সময়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইরানের শাসন পতন হলে নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরি হবে: মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ও নেতানিয়াহু নেতৃত্বে না থাকলে ইরান এতক্ষণে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। তিনি বলেন,
“ইরান ইসরায়েল এবং এর চারপাশের সবকিছু ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি এবং এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি যারা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল।”
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের ছায়ায়: আনন্দ, ভয় এবং অনিশ্চয়তার এক সপ্তাহ
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত ঐক্য কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার মতে, যৌথ পদক্ষেপের কারণেই ইরান এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি শুধু ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হবে নাকি নেতানিয়াহুরও সমান ভূমিকা থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এটি অনেকটা যৌথ সিদ্ধান্তের মতোই হবে। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি এবং সব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো কারণে আক্রমণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, ইসরায়েল এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে কি না—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে তার মতে, এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব এবং নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের আস্থার প্রতিফলন। বর্তমান সামরিক অভিযানে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে গিয়ে থামবে এবং এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান





