শবে বরাতে পুরান ঢাকায় রাজকীয় হালুয়া-রুটি, জমজমাট অলিগলি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র শবে বরাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পুরান ঢাকায় জমে উঠেছে বাহারি হালুয়া-রুটির পসরা। শবে বরাতের চিরাচরিত শতবর্ষ ঐতিহ্য ধরে রাখতে পুরান ঢাকার অলিগলিতে বুটের হালুয়া, মাস্কাট হালুয়া, মাখাদি হালুয়া, সুজির হালুয়া, গাজরের হালুয়া ও নকসি ফ্রেঞ্চি রুটির বেচাকেনার ধুম চলছে। এছাড়াও শবেবরাত উপলক্ষে মাসের বড়া, জিলাপি, মতিচুর লাড্ডু, মাওয়া লাড্ডু ঠাণ্ডা দই, রসমালাইও বিক্রি হচ্ছে সমানতালে।
মঙ্গলবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার চকবাজার, নাজিরাবাজার, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, রায় সাহেব বাজার, নারিন্দা, কলতাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বুধবার (৪ঠা ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত চলবে হালুয়া রুটির এই বেচাকেনা। একসময় ঢাকার শবে বরাতের সব আয়োজন চকবাজারকেন্দ্রিক থাকলেও বর্তমানে এর ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী পলিসি ডিবেট আয়োজনের উদ্যোগ, দুই শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ ডাকসুর
পুরান ঢাকার শবে বরাত মানেই ভিন্ন কিছু। সেই আদিকাল থেকেই বিশেষ মর্যাদায় শবে বরাত পালন করে পুরান ঢাকাবাসী। তাদের কাছে শবে বরাত শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি বড় সামাজিক উৎসবও বটে। দুই ঈদের পর এ রাতই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন-রাত। এদিনে এখানকার বেকারিতে তৈরি বিশাল আকৃতির শবে বরাতি রুটি ও নানা পদের হালুয়ার চাহিদা বরাবরের মতোই আকাশচুম্বী। বিশেষ করে ২ কেজি থেকে শুরু করে ১০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির রুটিগুলো নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। দোকান ও রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়বের আদলে নকশার ফ্রেঞ্চিরুটি। কোনোটি মাছ, কোনোটি কুমির আর কোনোটি হাঁসের আদলে তৈরি রুটি। সঙ্গে রয়েছে বুটের হালুয়া, গাজরের হালুয়া, সুজির হালুয়া ও সেমাই। বিশেষ করে বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে সাজানো নকশা করা ‘বরফি’ হালুয়াগুলো ঐতিহ্যের পূর্ণতা দিচ্ছে।
তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব এবার হালুয়া-রুটির বাজারেও কিছুটা লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের তুলনায় চিনির দাম ও আটার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে এসব শৌখিন খাবারের দাম। তবে দাম বাড়লেও ভোজনরসিক পুরান ঢাকাবাসীর কেনাকাটায় কোনো কমতি নেই।
আরও পড়ুন: ডাকসুর উদ্যোগে ছাত্রী হলে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি, দ্বিতীয় দিনে টিকা নিলেন প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "শবে বরাতে হালুয়া-রুটি আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। দাম কিছুটা বেশি হলেও পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খাবার পাঠানোর যে আনন্দ, তা অন্য কিছুর সাথে তুলনা যায় না।"
রুটি কিনতে আসা পুরান ঢাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দীন বলেন, মোগল আমল থেকেই শবে বরাতে হালুয়ারুটি তৈরি করার রীতি চালু আছে। আজকের দিনে নতুন জামাইরা শ্বশুরবাড়ি বড় রুটি এবং হালুয়া নিয়ে যান। একই সঙ্গে মেয়ের বাড়ি থেকেও তার শ্বশুরবাড়িতে শবেবরাতের হালুয়া, পায়েস ও রুটির ঢালা পাঠানো হয়। এটি আমাদের শতবর্ষী ঐতিহ্য, কম-বেশি সবাই এটা করেন।





