নারীর ছদ্মবেশে জবি ক্যাম্পাসে যুবক, আটক করলো শিক্ষার্থীরা

Any Akter
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ফটক দিয়ে নারীর ছদ্মবেশে প্রবেশের সময় এক যুবককে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা।  মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বোরকা পরিহিত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে একটি আবাসিক হোটেলের কার্ড পাওয়া যায় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি যাত্রাবাড়ী থানার এক এসআইয়ের সঙ্গে কাজ করেন, আনসারের সদস্য। গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন এলাকায় মাদকসেবী ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন বলেও দাবি তার।

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে গুরুত্ব দিলেন ডোনার

বোরকা পরার কারণ জানতে চাইলে তার বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রথমে তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা তাকে বিরক্ত করায় তিনি বোরকা পরে এসেছেন। পরে আবার বলেন, বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্তকারীদের শনাক্ত করে ধরিয়ে দিতে তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি পুলিশে দেওয়ার কথা বলে যাত্রাবাড়ী থানার এক ওসিকে ফোন দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং নিজেকে একজন নেতার লোক বলেও দাবি করেন। তবে তার দেওয়া পরিচয় ও পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক

বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নারী ছদ্মবেশে ওই ব্যক্তির প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি কী উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন, তার কাছে থাকা আবাসিক হোটেলের কার্ডের বিষয়টি এবং তার দেওয়া বিভিন্ন পরিচয়ের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং ওই ব্যক্তি কি উদ্দেশ্যে এসেছিলেন আমরা এটি ভালোভাবে জেনে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যদি কোনো ক্ষতি সাধন করতে চায়, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।